32 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

অভিযোগ করতেই স্কুলের ‘টার্গেট’ ছাত্র : কড়া পদক্ষেপ নিল শিশু অধিকার কমিশন !

Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার ফুলবাগান এলাকার এক বেসরকারি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এক ছাত্রকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়ায় নড়েচড়ে বসলো শিশু অধিকার (Child Rights) কমিশন। ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়ার পরেও আচমকা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিশুর অভিভাবকরাও।

ছাত্রটি এর আগে একাধিকবার শিক্ষকদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল। এরপর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে বারবার শাস্তি দেওয়া হয়। অভিভাবকদের দাবি, পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই স্কুল কর্তৃপক্ষ TC দিয়ে ছাত্রটিকে বহিষ্কার করেছে।

নিয়মের দোহাই স্কুল কর্তৃপক্ষের 

অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী তিনবার সতর্কবার্তা বা সাসপেনশন হলে TC দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমবার ২০২৩ সালে বাথরুমে মারামারির অভিযোগে ছাত্রটিকে সতর্ক করা হয়। পরে সহপাঠীকে ‘গরু’ বলার জন্য আরও দু’বার সতর্কবার্তা ও সাসপেনশন দেওয়া হয়।
তবে ছাত্রের বাবার দাবি, “ও বাচ্চা। ভুল করলেও শাস্তির একটা সীমা থাকা উচিত।”

আগে থেকেই নির্যাতনের শিকার 

অভিভাবকদের অভিযোগ, ছাত্রটিকে ক্লাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হত। এমনকি ক্লাসে হাসার জন্য ১০ কেজির ব্যাগ নিয়ে রোদের মধ্যে মাঠে দৌড় করানো হয়, যার ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছেলেটির বাবার কথায়, “আমরা স্কুলে অভিযোগ জানাতেই ওকে টার্গেট করা শুরু হয়।”

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, পুরনো ছাত্রদের সরিয়ে নতুন ভর্তি নিয়ে বেশি ফি আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ মেলেনি।

এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন স্কুলকে নোটিস পাঠিয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কমিশন জানতে চেয়েছে যে কেন ছাত্রটিকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে কোনও তদন্ত হয়েছে কি না, ছাত্রের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ছাত্রটিকে ক্লাসে ফিরতে দেওয়া হয়েছে কি না সেই বিষয়গুলির যথাযথ উত্তর চেয়ে পাঠিয়েছে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিক্ষার অধিকার আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এভাবে TC দেওয়া যায় না।”

শিক্ষার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন

সংবিধানের ২১(ক) ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর ৬ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। যেকোনো শিশুকে অকারণে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা বা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানের প্রতিপালিত শিক্ষার মূলনীতির পরিপন্থী। শিক্ষার্থীকে TC দিয়ে একদম হঠাৎ বের করা, তার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শিক্ষাজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা স্পষ্টভাবে RTE অ্যাক্ট ও সংবিধানের শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘন। এই ঘটনা আবার দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোর দায়িত্বের সীমা ও কর্তৃত্বের অপব্যবহারের দিকটি তুলে ধরলো। তবে এবার স্কুল কর্তৃপক্ষ কি জানায় সেদিকেই নজর শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের। এরপরেই তাঁরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন