স্নেহা পাল, কলকাতা : তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মহুয়া মৈত্র ওই পোস্টকে ভুয়ো বলে ৭ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করেছিলেন।
এরপর পুলিশের তদন্তে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষায় স্ক্রিনশটটি প্রাথমিকভাবে ভুয়ো হিসেবে ধরা পড়ে। যে এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছিল, তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজির না হওয়ায় নদিয়া আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানা কার্যকর করতে বিশেষ পুলিশ দল নয়ডা যায়।
এখানেই মামলায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, ই-মেলের মাধ্যমে FIR জানালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানায় গিয়ে সশরীরে সই করা বাধ্যতামূলক। এই মামলায় চার্জশিটে কোনও স্বাক্ষর নেই। পাশাপাশি, অভিযোগ দায়েরের পরপরই অন্য রাজ্যে গিয়ে অভিযান চালানো কতটা আইনসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
রাজ্যের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে আদালত পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের ‘অতিরিক্ত তৎপরতা’ নিয়েও মন্তব্য করেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। মামলার অভিযুক্ত ঋষি বাগরিকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রেপ্তার থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।
এই ঘটনায় ইমেল FIR এর বৈধতা, পুলিশের দায়িত্ব এবং প্রাথমিক তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।


