Aaj India Desk, কলকাতা : শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পাখির চোখ ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র। একদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি সংঘর্ষে উত্তপ্ত এই কেন্দ্র। কলকাতার এই কেন্দ্রকেই সামনে রেখে কর্মিসভা থেকে বড় জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
৬০ হাজার লিড
রবিবার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভবানীপুরে (Bhabanipur) আগের লিডের ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে। ২৩১টি বুথে পাওয়া লিডকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করে তিনি প্রত্যেক কর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় ভোট বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “টার্গেট শুধু জেতা নয়, ৬০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিততে হবে।”
সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যেখানে তাঁকে প্রয়োজন হবে, তিনি সেখানে গিয়েই প্রচার করবেন। একই সঙ্গে আত্মতুষ্টি এড়িয়ে মাঠে নেমে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। “একবার নয়, তিনবার করে মানুষের কাছে যান। চায়ের আড্ডা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন।”
বিজেপিকে দুর্নীতির তকমা
পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “মানুষকে বোঝাতে হবে বিজেপি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল।” বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, নারায়ণ রানে ও শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তুলনা টেনে আনেন অভিষেক। রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্য সাথীর মতো প্রকল্প আরো বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপনের তুলনাও টানেন অভিষেক। তিনি বলেন, এই পার্থক্যই মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এছাড়া কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই বিষয়টিও প্রচারে রাখতে হবে, তবে একই সঙ্গে সরকারের কাজের রিপোর্ট কার্ডও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
মহারণে বাড়ছে চাপ
ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র নিয়ে দুই দল ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ব্যাটেলগ্রাউন্ড ভবানীপুরকে দখল করতে এবার বিজেপিকে কোণঠাসা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন অভিষেক। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে এই হেভিওয়েট কেন্দ্র, তা জানা যাবে ভোটের ফলাফলের দিন।


