Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সামনে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিউ টাউন এলাকায় শুক্রবার সকালেই একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল নগদ ২৫ লক্ষ টাকা (Cash), যা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ির আরোহী সুরেশ ঠাকুর ওই বিপুল অঙ্কের টাকার কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ব্যাগ ভর্তি অবস্থায় থাকা নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে ভোটের আগে কি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে কালো টাকার কারবার?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় এই ধরনের নগদ অর্থ (Cash) উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। বরং ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করতে ‘অপ্রকাশিত অর্থ ‘ ব্যবহারের অভিযোগ বহুদিনের। বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, এই টাকা কোন রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হোক। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে পাল্টা অভিযোগ, বিরোধীরাই ভোটের আগে পরিবেশ ঘোলাটে করতে এই ধরনের চক্রান্ত করেছে । সব মিলিয়ে, একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ২৫ লক্ষ টাকা এখন শুধুই একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয় বরং তা ভোটের আবহে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠছে। যদিও তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর সবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই গোটা রাজ্যে কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (FST)। সেই মতোই শুক্রবার সকালে নিউ টাউন-এর সিটি সেন্টার ২ চত্বরে টহলদারির সময় একটি গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় তাদের। সন্দেহের বশেই গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা।
প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, গাড়ির ডিকি খুলতেই সামনে আসে একটি ব্যাগ আর সেটিই বদলে দেয় গোটা পরিস্থিতি। ব্যাগ খুলতেই কার্যত চমকে ওঠেন কর্তব্যরত অফিসাররা। ভিতরে পরপর সাজানো টাকার বান্ডিল গোছানো, স্তরে স্তরে রাখা। গণনা করে দেখা যায়, মোট ২৫ লক্ষ টাকা রয়েছে সেই ব্যাগে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সাধারণ তল্লাশি থেকে বড়সড় রহস্যে সামনে আসে, যার জেরেই শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত সুরেশ ঠাকুর রাজস্থানের বাসিন্দা। তিনি শিয়ালদহ থেকে একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু গাড়িতে থাকা বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। শুধু টাকার উৎসই নয়, সেই অর্থ কোথায় বা কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব মেলেনি তাঁর কাছ থেকে।এরপরই পুলিশ ২৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে।
যদিও ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও যোগ না থাকায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অতীতেও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফলে এই ঘটনার পিছনে বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ তপ্ত। গত ১৫ মার্চ সেই সূচি প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কারণ, নির্বাচন এলেই বারবার সামনে আসে “কালো টাকার” অভিযোগ যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মাটির স্তরে সেই কড়াকড়ি আদতে কতটা কার্যকর? নিউটাউনে ২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনা সেই বিতর্কই আরও উসকে দিচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোথা থেকে এল, কেনই বা তা নগদে বহন করা হচ্ছিল এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও অধরা।
সমালোচকদের একাংশ বলছে, ‘নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়, বরং বহু ক্ষেত্রেই তা বড় চক্রের ইঙ্গিত দেয়, যা অনেক সময় ধরাই পড়ে না।’ তদন্তে নামা পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই টাকা আদতে কার, এবং কী উদ্দেশ্যে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র টাকা উদ্ধার করলেই দায় শেষ নয় এর পেছনের ‘যোগসূত্র’ প্রকাশ্যে আনা না গেলে, স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।


