ঢাকা: রাত পোহালেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে বাংলাদেশ (Bangladesh)। ‘বৈষম্য বিরোধী’ আগস্ট আন্দোলনে প্রাণ দিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশের’ স্বপ্ন দেখেছিলেন মুগ্ধ, আবু সাইদ, শান্ত, সাকিবরা। তাঁদের সেই বাংলাদেশ পরিবর্তন দেখেছে ঠিকই, তবে তা রক্তাক্ত, বিদগ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে বাংলাদেশী হিন্দুদের বরাতে যে আগুন জ্বলেছে, তার শিখা এখনও উজ্জ্বল!
ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে সরকারের ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ মহম্মদ ইউনুস দেখেছেন সেই হত্যালিলা, ‘অপরাধমূলক’ বলে উল্লেখও করেছেন। কিন্তু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার! নতুন সূর্যের আশায় অপেক্ষারত বাংলাদেশীর (Bangladesh) ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান’ সেই মহম্মদ ইউনুসের দায়িত্ব শেষ। এবার ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে বাংলাদেশ। তবে ক্ষমতার হাতবদলে কি বাংলাদেশী হিন্দুদের ‘হাল-বদল’ হবে? বুধের রাতে বিশেষজ্ঞ মহলে এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন
পড়শি ওপার বাংলার মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ হিন্দু। নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্রমাগত আক্রমণের জেরে আতঙ্কে দেশছাড়া হয়েছেন বহু হিন্দু। সম্প্রতি মৌলবাদীদের স্বীকার হয়েছেন দীপু দাস, সুসেন সরকারের মোট বহু হিন্দু। তাঁদের মৃত্যুকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষার বুলি আওড়াচ্ছে বিএনপি থেকে জামাত। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, গত কয়েক দশক ধরে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষার’ আশ্বাস দিলেও বাস্তবের মাটিতে তা যেন বিলীন হয়ে যায়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন
বৃহস্পতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে বাংলাদেশ। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ টিতে আগামীকাল ভোটগ্রহণ। একটি আসন, শেরপুর-৩ এ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে। মোট ৫০ টি নথিভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দল আগামীকাল ভোটে লড়বে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০২৮ জন। জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি হবে জুলাই সনদের গণভোট। তবে লড়ছে না ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত দল শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ। পোস্টাল ব্যালটেই হবে ভোটগ্রহণ।
জামাত বনাম বিএনপি?
বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় নির্বাচনে জামাত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্দ্যিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগের এখনও প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ সমর্থন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে উঠে এসেছে বাংলাদেশের এখনও ৭% ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন।
আবার ব্র্যাক ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৮৪.৫% উত্তরদাতা ভোটদানের বিষয়ে ‘অনিশ্চিত’ বলেছেন। যা থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা স্পষ্ট। একটি সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক মাসে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা মহিলাদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভোটের দিন যদি উত্তেজনা বা অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এই শ্রেণির বহু ভোটার বুথমুখী নাও হতে পারেন।


