ঢাকা: গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন খালেদা-পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের মসনদে ফের আসীন হলেন এক পুরুষ। ১২ ফেব্রুয়ারি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে বাংলাদেশ ন্যাশানালিস্ট পার্টি (BNP)।
তারেকের নেতৃত্বে ২৯৯ টি জাতীয় সংসদীয় আসনের মধ্যে ২১২ টি আসন যেতে বিএনপি (BNP) জোট। ২০২৪ আগস্ট আন্দোলনে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি, জুলাই সনদে উল্লেখিত রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও এখন তারেকের ওপর। এতদিন যা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অগ্রাধিকার ছিল।
ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের আভাস
প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ঢাকায় গিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি তারেককে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শুভেচ্ছা বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার ঢাকার গুলশানে BNP চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফুল ও মিষ্টি পৌঁছে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। BNP মিডিয়া সেলের সদস্য আতীকুর রহমান রুমান সেই উপহার গ্রহণ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ আধিকারিক মেহেদুল ইসলাম মেহেদিও।
বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি জামাত-এনসিপির
অন্যদিকে, বিরোধী এনসিপি এবং জামাত শপথগ্রহণের আগেই জানিয়ে দেয়, জুলাই সনদ–সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকলে তারা কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামবে। দুই দলই ইঙ্গিত দিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করা হতে পারে।
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচনে ২১২টি আসনে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা জয় পেয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশ। ওই গণভোটে প্রস্তাব করা হয়েছে, জুলাই সনদের আওতায় ১৮০ দিনের জন্য সংসদকে গণপরিষদে রূপান্তর করা হবে।
যদিও জুলাই সনদে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছিল, তবু দলটির একাধিক নেতা তখনই সনদের কয়েকটি ধারার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সনদ প্রণয়নের সময় বিএনপির সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি।


