কলকাতা: গান গেয়েছিল যে কণ্ঠ, নিথর হল জেলে। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে (Bangladesh) মৌলবাদের বলি আরও এক শিল্পী। ওপার বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী প্রলয় চাকী (Proloy Chaki) আর নেই। গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাথরতলার বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ইউনুসের বাংলাদেশের পুলিশ।
আওয়ামি লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সঙ্গীতশিল্পী প্রলয় চাকীর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা দায়ের ছিল। সেই অভিযোগেই তাঁকে রাখা হয়েছিল পাবনা জেলা কারাগারে। শুক্রবার তিনি অসুস্থ বোধ করায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ঘরে ফেরা হল না আর। রবিবার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল হিন্দু সঙ্গীতশিল্পী প্রলয় চাকীর।
পুলিশি নির্যাতনেই কি মৃত্যু?
আওয়ামি লিগের নেতাদের দাবী, জেলবন্দী অবস্থায় সঙ্গীতশিল্পীকে নির্যাতন করা হত। পাশাপাশি, জেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও জানানো হয়নি এবং চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী শিল্পীর পরিবারের। প্রলয় চাকীর (Proloy Chaki) ছেলে সানির অভিযোগ, বাবার বিরুদ্ধে কোনও মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার
ইউনুস প্রশাসনের দাবী, ৪ আগস্টের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রলয় চাকীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেল সুপার ওমর ফারুকের দাবী, ৬০ বছর বয়সী প্রলয় চাকী আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি ডায়াবিটিস, হৃদরোগ সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে নিয়মিত ওষুধ দেওয়াও হত।
সংগীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক প্রলয় চাকীর (Proloy Chaki) মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সাংস্কৃতিক মহলে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না শিল্পীমহল—একে ‘সত্যিই কষ্টকর’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন পাবনা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা।


