স্নেহা পাল, ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় মাচাদো (Machado) বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের (Nobel Peace Prize) পদকটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) উপহার দেন ও ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকার’কে শ্রদ্ধা জানান। মেডেল গ্রহণের সময় ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী হাসিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, এটি তাঁর কাছে পারস্পরিক সম্মান ও স্বীকৃতির প্রতীক।
ইতিহাসে এই প্রথম একজন নোবেল বিজয়ী স্বেচ্ছায় মেডেল তুলে দিয়েছেন অন্যের হাতে। কিন্তু সেটি আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেকের মনেই। নোবেল ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তা প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্যের কাছে স্থানান্তর করা যায় না। এটি চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।” নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়মাবলীতে এই নিয়ে কোনো অভিযোগের সুযোগ নেই, তবে তারা জানিয়েছেন যে পুরস্কারটি ট্রাম্পের নামে স্থানান্তর হবে না।
নোবেল শান্তি পুরস্কার মানবজাতির সর্বোচ্চ কল্যাণকর কাজের জন্য দেওয়া হয়। নিকোলাস মাদুরোকে (Nicholas Maduro) ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত করার পরেই মাচাদো ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার উপহার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। মাচাদোর এই উপহার প্রদানকে কেউ কেউ ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পূর্বে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী সরকারের নেত্রী ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এখন এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই ঘটনাকে নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি জোরদার করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করবেন। পুরস্কার হস্তান্তর নিয়ে নোবেল কমিটির অবস্থান স্পষ্ট হলেও এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক চলছে।


