ওয়াশিংটন: ১৯৭১-এর রক্তাক্ত মার্চ মাস! ২৫ তারিখ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে পাক-সরকার। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী, জামাতে ইসলামীর আদর্শে প্রভাবিত উগ্রপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায়, পূর্ব পাকিস্তানে শুরু করে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ (Operation Search Light) নামক নৃশংস অভিযান। নাগাড়ে গণহত্যা (Genocide), মহিলাদের বেআব্রু করা, প্রকাশ্যে গণধর্ষণ, খুন!
৭১-এর সেই রক্তাক্ত ইতিহাসকে ‘গণহত্যা’ বা ‘জেনোসাইড’ স্বীকৃতির দাবী জানিয়েছেন এক মার্কিন আইনপ্রণেতা। জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী সংগঠন জামাতে ইসলামীর দ্বারা বাঙালি হিন্দুদের ওপর চালানো নৃশংসতাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘গণহত্যা’ (Genocide) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন রাতে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী, জামাতে ইসলামীর আদর্শে অনুপ্রাণিত উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতায়, পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক অসামরিক মানুষের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ শিরোনামে ওয়াশিংটনে একটি টেলিগ্রাম পাঠান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় অবাঙালি মুসলমানরা পরিকল্পিতভাবে দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়ে বাঙালি ও হিন্দুদের হত্যা করছে।
পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল পাঠানো আরেকটি বার্তা, যা ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত, তাতে আর্চার ব্লাডসহ ঢাকাস্থ মার্কিন কনস্যুলেটের ২০ জন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীরবতার প্রতিবাদ জানান। তারা যুক্তি দেন, এই সংঘাতকে কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ এর সঙ্গে গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ জড়িত।
যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো সমগ্র জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তাদের কিছু সদস্যের অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় না। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের মিত্র জামাতে ইসলামী কর্তৃক বাঙালি হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা (Genocide) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিক।


