কাঠমান্ডু: পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছনর পথপ্রদর্শক তাঁরা। মাউন্ট এভারেস্ট অভিযাত্রীদের (Everest Climbers) প্রতিটি পদক্ষেপ নির্ভর করে নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে ছোট্ট কাঠের কুঠুরিতে নির্মম প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া শেরপাদের উপর। তাঁদের নির্দেশের একচুল এদিক ওদিক হলেই হিমালয়ের কোলে যেতে পারে প্রাণ! কিন্তু এবার সেই শেরপাদের বিরুদ্ধেই এভারেস্ট অভিযাত্রীদের (Everest Climbers) জীবন নিয়ে খেলার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এল।
কাঠমান্ডু পোস্ট নামক নেপালের জনপ্রিয় সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনে দাবী কড়া হয়েছে, এভারেস্ট অভিযাত্রীদের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছেন ট্রেকিং সংস্থা গুলোর সঙ্গে যুক্ত শেরপারা। কিন্তু কেন এই নোংরা খেলায় নেমেছেন নেপালের কিছু শেরপা? কাঠমান্ডু পোস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমার কটি টাকা হাতাতে এভারেস্ট অভিযাত্রীদের (Everest Climbers) খাবারে বেকিং সোডা মিশিয়ে বিষপ্রয়োগ করছিলেন কিছু অসাধু শেরপা।
অভিযোগ, খাবারে বিষ দেওয়ার ফলে এভারেস্ট অভিযাত্রীদের মধ্যে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা বা খাদ্য বিষক্রিয়ার মতো তীব্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গ দেখা দিত। তাঁদের প্রাণ বাঁচানোর আছিলায় ব্যয়বহুল জরুরি হেলিকপ্টার পরিষেবা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হত। অভিযাত্রীদের বিমার কোটি টাকা হাতিয়ে ভাগ করে নিত ট্রেকিং কোম্পানি, শেরপা, হেলিকপ্টার কোম্পানি এবং হাসপাতালগুলো।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রেকিং কোম্পানির মালিক, হেলিকপ্টার চালক এবং হাসপাতালের কর্মী সহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে নেপাল পুলিশ। জানুয়ারিতে তিনটি প্রধান পর্বত উদ্ধারকারী সংস্থার ছ’জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে, যা প্রকাশ করেছে বিশাল জালিয়াতির হিসাব। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলো প্রতারণার মাধ্যমে কমপক্ষে ১৯.৬৯ মিলিয়ন ডলার হাতিয়েছে। এক কোম্পানি মাত্র ১৭১টি জাল উদ্ধার দাবির মাধ্যমে ১০ মিলিয়নের বেশি অবৈধ অর্থ পেয়েছে, অন্যটি ৮ মিলিয়ন, আর তৃতীয়টি ১ মিলিয়নেরও বেশি। রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যেই ১ কোটি ১৩ লক্ষ ডলারের জরিমানা দাবি করেছে, এবং আদালত মামলাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


