পৌলোমী ব্যানার্জী, হরিয়ানা: রঙ, আবির আর ঢোলের তালে যখন চারদিকে উৎসবের আমেজ, ঠিক সেই সময়েই একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উঠল অস্বস্তিকর প্রশ্ন—উৎসবের উচ্ছ্বাস কি কখনও নিরীহ প্রাণীর কষ্টের (Animal Cruelty) কারণ হতে পারে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হোলি উদ্যাপনের মাঝে কয়েকজন যুবক একটি গরুর মুখে জোর করে মদ ঢালার চেষ্টা (Animal Cruelty) করছেন বলে অভিযোগ।
আশপাশে রঙে মাখামাখি মানুষজন, কেউ দেখছেন, কেউ হাসছেন, কেউবা মোবাইলে সেই দৃশ্য বন্দি করছেন।
ভিডিওর দাবি, ঘটনাটি হরিয়ানার কোনও এলাকায় ঘটেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে ঘটনার সত্যতা ও স্থান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবু দৃশ্যটি (Animal Cruelty) ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নেটমাধ্যমে।
প্রাণী অধিকারকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দের আড়ালে এ ধরনের আচরণ নতুন নয়। রাস্তায় থাকা গরু বা অন্যান্য প্রাণীকে রঙ লাগানো, ভয় দেখানো বা জোর করে কিছু খাওয়ানো—এসবই পশু নির্যাতনের (Animal Cruelty) পর্যায়ে পড়ে।
সেই মতে, অ্যালকোহল গবাদি পশুর শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে; এতে শারীরিক জটিলতা থেকে শুরু করে আচরণগত পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একটি গরুকে দিয়ে গাড়ি টানানো হচ্ছে, আর তার উপর বসে রয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি।
অভিযোগ, তাঁরা নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেই এমন কাজ করছিলেন। এই দৃশ্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে—উৎসবের নামে কি আইন ও মানবিকতার সীমারেখা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে?
প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কোনও পদক্ষেপের কথা জানানো না হলেও, স্থানীয় সূত্রে খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের কথাও বলছেন।
রঙের উৎসব আনন্দের, মিলনের কিন্তু সেই আনন্দ যদি কোনও নির্বাক প্রাণীর অস্বস্তি (Animal Cruelty) বা যন্ত্রণার কারণ হয়, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
ভাইরাল সেই ভিডিও এখন শুধু একটি ঘটনার চিত্র নয়, বরং উৎসবের মানবিকতার মানদণ্ড নিয়েই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে অনেককে।


