Aaj India desk, শ্রীনগর: রাতের সমুদ্র সাধারণত নিঃশব্দ। কিন্তু নিরাপত্তা মহলের দাবি, সেই নীরবতার আড়ালেই বাড়ছে সতর্কতা। সম্প্রতি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি (Pakistani militant) সংগঠন লস্কর-ই-তইবা-র এক শীর্ষ সদস্য বলে পরিচিত সইফুল্লাহ কাসুরি ২০২৬ সালের মধ্যে সমুদ্রপথে বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ২০০৮ সালের মুম্বই ২৬/১১ হামলা-র ছায়াও উঠে এসেছে। ফলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২৬/১১-র ঘটনার পর ভারতের উপকূল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। আরব সাগর পেরিয়ে জঙ্গিদের (Pakistani militant) অনুপ্রবেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাডার চেইন, উপকূলীয় পুলিশ স্টেশন, সমুদ্র টহল—সবই বাড়ানো হয়। ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত নজরদারি চালায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—হুমকি কি কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ, নাকি এর পিছনে বাস্তব প্রস্তুতি আছে?
এই ধরনের মন্তব্য অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। সরাসরি হামলার চেয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে চাপে রাখা—এটিও জঙ্গি (Pakistani militant) সংগঠনগুলির পুরনো কৌশল। ২০২৬ সাল উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ সময়সীমা নির্ধারণ করাও সেই কৌশলের অংশ হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অন্যদিকে সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ রুখতে বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো, বন্দর এলাকায় স্ক্যানিং ব্যবস্থা শক্ত করা এবং সন্দেহজনক নৌযান চিহ্নিত করতে তথ্যভাণ্ডার আপডেট রাখা হচ্ছে। বড় উপকূলীয় শহরগুলিতে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা চলছে।এখানেই গল্পের অন্য দিক।
২৬/১১-র পর আন্তর্জাতিক স্তরে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় তথ্য আদানপ্রদান বেড়েছে। ফলে যে কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আগের তুলনায় কঠিন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, বর্তমান প্রস্তুতি ২০০৮ সালের তুলনায় অনেক উন্নত।
তবু আতঙ্কের স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। সমুদ্র এখন শুধু বাণিজ্য বা পর্যটনের পথ নয়, নিরাপত্তারও বড় পরীক্ষা। ২০২৬ আদৌ ঝড় বয়ে আনবে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু সতর্কতার ঢেউ ইতিমধ্যেই উপকূলে আছড়ে পড়েছে।


