Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরে বেশ কিছুদিন থেকেই চাপে ছিল ভারত (India)। কিন্তু সেই চাপ কাটাতে ভারতের জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করলো আমেরিকা। মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, আগামী কিছুদিনের জন্য ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে এই অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
চাপের মাঝে জ্বালানির সমাধান
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সমুদ্রে ইতিমধ্যে থাকা রুশ তেলের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ফলে রাশিয়ার সরকার এর থেকে বেশি আর্থিক সুবিধা পাবে না। তিনি এটিকে একটি ‘স্টপগ্যাপ ব্যবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে থমকে বিশ্ব ব্যবস্থা
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।
রুশ তেলে নজর দিল্লির
ভারতে (India) মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং তার বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে পৌঁছায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে রুশ তেলের কার্গো কেনার বিষয়ে ট্রেডারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কেনার চুক্তি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং মাঙ্গালোর রিফাইনারি এই বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছিল ভারত (India)। তবে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ভারত কিছুটা রুশ তেল কেনা কমিয়েছিল। এর আগে রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত থাকলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের চাপ সামলাতে দিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে সাময়িক অনুমতি চেয়েছিল বলে সূত্রের খবর।


