28 C
Kolkata
Friday, March 27, 2026
spot_img

দক্ষতার বদলে দুর্নীতির ট্রেনিং ! কেন্দ্রের স্কিমে চলছে হিসাবের গরমিল !

                                          SPECIAL FEATURE 

স্নেহা পাল, নয়া দিল্লি: স্ক্যাম কীভাবে করতে হয় জানতে চান? আলাদা করে বই পড়ার দরকার নেই, সরকারি স্কিমের (central scheme) নথিই সেই পাঠ্যবই। মজা নয়, এক অডিট রিপোর্টে এমনই একাধিক তথ্য সামনে এসেছে, যা সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চালু করা Pradhan Mantri Kaushal Vikas Yojana (PMKVY) এর Comptroller and Auditor General of India (CAG) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ১০,১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রশিক্ষণ, আর্থিক লেনদেন ও তথ্য নথিভুক্তকরণে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গরমিল

রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৯৫ লক্ষ প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি করা হয় এবং এরপর তাদের প্রত্যেকের ব্যাংকে সরাসরি ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। অথচ তাদের মধ্যে ৯০ লক্ষ প্রার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুপস্থিত। বাকি ৫ লক্ষের মধ্যে বহু ক্ষেত্রে একই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট একাধিক প্রার্থীর নামে ব্যবহার হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ‘111111’, ‘123456’ বা অসম্পূর্ণ নম্বরের মতো অস্বাভাবিক তথ্যও পাওয়া গেছে।

একইভাবে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি প্রার্থীর কোনও মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডি নথিভুক্ত ছিল না। যেগুলি নথিভুক্ত সেগুলি আবার অস্বাভাবিক, যেমন ‘abc@gmail.com’, ‘123@gmail.com’ বা শুধুই শূন্য দিয়ে তৈরি ঠিকানা। অনেক ক্ষেত্রে ‘Migrated data’ হিসেবে তথ্য দেখানো হয়েছে, যা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এতে স্পষ্ট প্রশ্ন উঠছে, টাকা আদৌ প্রকৃত প্রাপকদের কাছে গিয়েছিল, নাকি অন্যত্র সরানো হয়েছে?

অস্তিত্বহীন সংস্থার নামে সার্টিফিকেট!

সিএজি রিপোর্টে ‘Neelima Moving Pictures’ নামে একটি সংস্থার উল্লেখ রয়েছে, যা নথিতে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন দিয়েছে বলে দাবি করা হলেও অডিটের সময় তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একইভাবে ‘Present Media Pvt. Ltd.’ নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধেও একই ছবি ও তথ্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ব্যাচে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রশিক্ষণ ব্যাচের ছবি একাধিক রাজ্যে ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রকল্পের (central scheme) ছবি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণের প্রমাণ দেখানো হয়েছে।

চাকরির হিসাবে অস্বাভাবিকতা

রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার প্রার্থীকে ৩৩টি জিমে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি জিমে প্রায় ৯০০ প্রশিক্ষক! বাস্তবিক দৃষ্টিতে এই সংখ্যাও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

পরিদর্শন প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়েছে গণ্ডগোল। রিপোর্টে উল্লেখ, আশীষ সেনওয়াল নামে এক পরিদর্শক একই দিনে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, তামিলনাড়ু সহ একাধিক রাজ্যে কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বলে দেখানো হয়েছে। শুধু তিনি নন, এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত পরিদর্শকদের প্রত্যেকেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন !

তবে এত দুর্নীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলেও এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় তরফে প্রকাশ্যে কোনও জবাবদিহিতা দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। এর মাঝেই তিনি আবার ভোট প্রচারে নেমে একের পর এক নতুন ও পুরনো প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরছেন। পুরো ছবিটিতে স্পষ্ট যে দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্পে (central scheme) আসলে সরকার নিজের দুর্নীতির দক্ষতা হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়েছেন !

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন