স্নেহা পাল, গ্যাংটক : একের পর এক ভূমিকম্পে গত কয়েক দিনে বারবার কেঁপে উঠেছে পর্যটনপ্রধান রাজ্য সিকিম (Sikkim)। গিয়ালশিং, নামচি ও মাঙ্গান এলাকায় মাঝারি মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে।
একাধিক আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ
National Centre for Seismology (NCS) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিকিমে (Sikkim) ৪.৪ ও ৪.৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। উভয় কম্পনের উৎস প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর। প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল গিয়ালশিং, যা দার্জিলিং থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দূরে।
গত এক সপ্তাহেই সিকিমে অন্তত দু’টি বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১৩ ঘণ্টায় মোট ৩৩টি আফটারশক রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI)। ভূকম্পগুলির মাত্রা ছিল ২.২ থেকে ৪.৫-এর মধ্যে।
স্কুল ভবনে ফাটল
এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপরও। গিয়ালশিং জেলার একাধিক স্কুল ভবনের দেওয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা গেছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আপাতত কোনও ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, তবে ভবনগুলির প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন জরুরি বলে জানানো হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, তিস্তা ফল্ট লাইনের আশপাশে এই ভূমিকম্পগুলি হয়। এই একই জায়গায় ২০১১ সালের ভয়াবহ সিকিম ভূমিকম্পও হয়। সে সময় প্রায় ১০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
পর্যটন মরশুমে আতঙ্কে ভ্রমণকারীরা
পর্যটনের মরশুমে এই ভূকম্পন সিকিমে (Sikkim) আসা পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হোটেল, হোমস্টে ও পাহাড়ি রাস্তায় থাকা পর্যটকেরা রাতের দিকে কম্পন অনুভব করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভূমিকম্পের ধারাবাহিক কম্পনের জেরে অনেক পর্যটকই নির্ধারিত সময়ের আগেই সিকিম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
চেকআউটে ব্যস্ত পর্যটক
হোটেল ও হোমস্টে সূত্রে জানা গিয়েছে, গিয়ালশিং, পেলিং ও আশপাশের এলাকায় একাংশ পর্যটক বুকিং সংক্ষিপ্ত করে দিচ্ছেন বা বিকল্প গন্তব্যের খোঁজ করছেন। রাতের দিকে একাধিক কম্পন অনুভূত হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক পর্যটকদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্বস্তির আশ্বাস
তবে পর্যটকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কথাও জানিয়েছে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের মতে, বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই এবং পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চললে এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়ালে নিরাপদভাবেই ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তাঁরা।


