“ওদের চাপে রাখতে অত্যাচার করছি”! গত ২৪ জানুয়ারি মুসলিমদের ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)! গেরুয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই মন্তব্য থেকেই সেই রাজ্যের শাসনব্যবস্থার খুব সহজে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দৃপ্ত কণ্ঠে হিমন্ত বলেছেন, “কোন হিন্দু নোটিশ পেয়েছে? কোন অসমিয়া মুসলিম নোটিশ পেয়েছে? নোটিশ শুধু মিয়াঁদের (Miyans) পাঠানো হয়েছে। নয়ত ওরা আমাদের মাথায় উঠে নাচবে”।
উল্লেখ্য, বাংলা ভাষায় কথা বলা মুসলিমদের সাধারণত অসম্মান করে “মিয়াঁ” বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। গোড়ায় এই মন্তব্যকে “প্রক্রিয়াগত বিভ্রান্তি” বলে মনে হলেও পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই বাংলাভাষী মুসলিমদের (Muslim) কার্যত “টার্গেট” করছেন।
সংবিধানকে “বুড়ো আঙুল”?
একটি রাজ্যের নির্বাচিত সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রকাশ্যে গলা ফাটিয়ে ঘোষণা করছেন যে, একটি নিরদিশ জনগোষ্ঠী কে “চাপের মধ্যে রাখা” নোটিশের মূল উদ্দেশ্য! এটা কোনও প্রশাসনিক “ভুল” নয়। প্রশাসনিক পরিসর ছেড়ে এটা সরাসরি সংবিধানের বিরুদ্ধাচরণ! তাও আবার কোনও সাধারণ মানুষ, কিমবা দৃষ্টি আকর্ষণকারী কোনও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় এঁদো নেতা নন, বরং একটি রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।
এখানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বা নির্বাচনী প্রতিনিধিই নন, বরং একজন সাংবিধানিক পদাধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ভারতীয় সংবিধানের প্রতি সত্য, নিষ্ঠা ও আনুগত্য বজায় রাখার এবং পক্ষপাত, ভয়, অনুরাগ বা বিদ্বেষ ছাড়া দায়িত্ব পালন করার শপথ নিয়েছেন। এই শপথবাক্য পাঠ কোনও নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। নৈতিক ও সংবিধানিক সীমারেখার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিজের রাজ্যবাসীর অভিভাবক হওয়ার দায়িত্ব।
ঠিক কি কি বলেছেন অসম-মুখ্যমন্ত্রী?
বাংলাভাষী মুসলিমদের “মিয়াঁ” (Miyans) বলে উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেছেন, “নিয়ম অনুযায়ী মিয়াঁরা এখানে ভোট দিতে পারবেন না। তাঁদের বাংলাদেশে ভোট দেওয়া উচিৎ। শর্মা দাবি করেন, অসমে বাংলাভাষী মুসলিমদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অসমে এসআইআর শুরু হলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মিয়াঁর ভোট বাতিল করতে হবে।” রাজনৈতিক সমালোচনার জবাবে তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস চাইলে আমাকে গালি দিতে পারে। আমার কাজ হলো মিয়াঁদের সমস্যায় ফেলা।”


