Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা, তার রেশ এবার ভারতের রাজনীতিতে। ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি ফ্রিগেট ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সতর্ক করে বলেছেন, সামনে ভারতের জন্য কঠিন সময় আসতে পারে। তাঁর কথায়, “Stormy seas lie ahead”—অর্থাৎ পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি এখন বেশ অনিশ্চিত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে তার প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে।
তিনি দাবি করেন, ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে সেই পথে কোনো সমস্যা হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি সামরিক ঘটনা। খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ—ফ্রিগেট Dena—মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যায়। ওই জাহাজে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারত মহাসাগরের কাছাকাছি এলাকায়, যা ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনার পরই রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন—সংঘাত যদি এতটা কাছাকাছি চলে আসে, তাহলে ভারতের প্রস্তুতি কী?
তাঁর মতে, এই সময়ে দেশের দরকার স্পষ্ট বার্তা ও স্থির নেতৃত্ব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি বলেই তিনি মন্তব্য করেন। রাহুলের (Rahul Gandhi) পোস্টে আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্যও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে মতভেদ রয়েছে।
এদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে অযথা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে গোটা ঘটনার পর একটি প্রশ্নই সামনে আসছে—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব কি সত্যিই ভারতের ওপর পড়তে পারে? কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয় এবং ভারত সেই পথের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
এই কারণেই এখন আলোচনা ঘুরছে একটাই জায়গায়—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কি শুধু আন্তর্জাতিক খবর হয়ে থাকবে, নাকি তার প্রভাব সরাসরি ভারতের জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও দেখা যাবে?


