Aaj India desk, কলকাতা: দীর্ঘ বিরতির পর আবার ঘুরতে চলেছে আন্তর্জাতিক চাকা। কূটনীতির বরফ গলতেই ফের সক্রিয় হচ্ছে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা(Agartala Dhaka kolkata)বাস পরিষেবা—যা উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু। দুই দেশের সমন্বয় বৈঠকের পর পরিষেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাস পরিষেবার ক্ষেত্রে নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা(Agartala Dhaka kolkata) রুট, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের যাত্রীদের জন্য সময় ও খরচ , দু’দিক থেকেই লাভজনক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় প্রায় সম্পন্ন। এদিকে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এই বাস পরিষেবা প্রথম চালু হয় ২০১৫ সালে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলপথে সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র উপস্থিতিতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা(Agartala-Dhaka kolkata) রুট সেই সহযোগিতারই প্রতীক হয়ে ওঠে।
তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় পরিষেবা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি এবং যাত্রীসংখ্যার সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটনে গতি আসায় পুনরায় এই রুট সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই রুটের বিশেষত্ব হলো—আগরতলা থেকে সরাসরি ঢাকার মধ্য দিয়ে কলকাতায়(Agartala Bus kolkata)পৌঁছনো যায়, ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ ‘চিকেনস নেক’ ঘুরে আসার প্রয়োজন পড়ে না। সময় সাশ্রয় হয় প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটন ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ‘people-to-people connectivity’ আরও জোরদার হবে। সীমান্ত পেরিয়ে সংস্কৃতি, ব্যবসা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক নতুন করে প্রাণ পাবে।
চাকার ঘূর্ণনে তাই শুধু পথই ছোট হবে না—দুই বাংলার দূরত্বও কমবে। এখন চোখ রাখতে হবে ঘোষণার দিকে।


