Aaj India desk, দেহরাদুন: কুম্ভ মেলা (Kumbh Mela) মানেই লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম। ২০২৭ সালের কুম্ভকে(Kumbh Mela) সামনে রেখে উত্তরাখণ্ড সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। লক্ষ্য একটাই—হরিদ্বারে আসা প্রত্যেক পুণ্যার্থীর যাত্রা যেন হয় নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ এবং সুশৃঙ্খল। আর সেই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে হরিদ্বার রেলওয়ে স্টেশন। —যেখানে সবচেয়ে বেশি ভক্ত ট্রেনে পৌঁছবেন!
২০ ফেব্রুয়ারি মেলা আধিকারিক সোনিকা রেল ও মেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে স্টেশন পরিদর্শন করেন। কুম্ভ(Kumbh Mela)উপলক্ষে রেলওয়ের তরফে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি জানান, রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কুম্ভ(Kumbh Mela) আয়োজন করতে চায় এবং বেশিরভাগ স্থায়ী কাজ ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে।
এদিকে পরিদর্শনের সোনিকা বলেন, স্টেশনই হবে বহু ভক্তের প্রথম গন্তব্য। তাই প্রবেশ ও প্রস্থান পথ আলাদা করে সাজানো, পর্যাপ্ত অপেক্ষাকক্ষ তৈরি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া প্ল্যাটফর্মে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বাড়তি কর্মী মোতায়েন, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার খোলা এবং হেল্পডেস্ক শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সাথে পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম আরও উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।
কুম্ভের (Kumbh Mela)সময় বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রবীণ মহিলা ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য আলাদা সহায়তা কাউন্টার খোলা হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জিআরপি ও আরপিএফের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হবে। তার সাথে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও থাকবে স্টেশন চত্বরে!
স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট দীনেশ কুমার জানান, প্রায় ১০ হাজার যাত্রী ধারণক্ষম একটি বড় ‘হোল্ডিং এরিয়া’ তৈরির কাজ পরিকল্পনায় রয়েছে যাতে ভিড় সামলানো সহজ হয়। পাশাপাশি মোতিচুর, জ্বালাপুর ও রাইওয়ালা স্টেশনেও সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেলা আধিকারিকরা লালজিওয়ালা, ভীমগোড়া ব্যারাজ ও রোডি বেলওয়ালা-খাদ্দা পার্কিং এলাকাও পরিদর্শন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুম্ভ (Kumbh Mela) শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের মিলনমেলা। সেই বিশ্বাসের যাত্রাপথ যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্যই এখন থেকেই হরিদ্বারে জোর প্রস্তুতি চলছে।


