Aaj lndia Desk , নয়াদিল্লি: এলপিজি (LPG) সরবরাহে টান পড়ার ইঙ্গিত মিলতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার, ২২ মার্চ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেবিনেট কমিটির সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব যেন দেশের সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে জরুরি পরিষেবা ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ রাখতে হবে স্বাভাবিক অর্থাৎ, যুদ্ধ বাইরে হলেও তার প্রভাব যাতে ঘরের ভিতর না ঢোকে সেই লক্ষ্যেই সতর্ক থাকছে সরকার।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেবিনেট কমিটির সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুধু প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ মন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহা (Amit Sha) প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান ( Nirmala Sitharaman) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা, সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের দিকেও নজর রাখা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী (Short-term) পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী (Long-term) কৌশল দুই দিক নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
পাশাপাশি, শক্তি সংরক্ষণ (Energy Security) এবং জাতীয় নিরাপত্তা কেও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, দেশের ভিতরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
যুদ্ধের আবহে শুধু কূটনীতি নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যজীবনও এখন সরকারের নজরে। খাবার থেকে জ্বালানি প্রতিটি জরুরি পণ্যের মজুত, চাহিদা আর সরবরাহের খুঁটিনাটি হিসাব কষে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র কাছে।
সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব আর শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, তার ছায়া পড়ছে গোটা বিশ্বের উপর।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের যুদ্ধের সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা, প্রয়োজনীয় জিনিসের যোগান স্বাভাবিক রাখা। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও দেশের ভিতরে স্থিরতা বজায় রাখাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
যুদ্ধের উত্তাপ বাড়তেই আগাম প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যেন দেশের ভিতরে সঙ্কট তৈরি না হয়।
বৈঠকের পর সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে –
- বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখতে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
- পেট্রোকেমিক্যাল, কেমিক্যাল, ওষুধ এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির সরবরাহ নিয়েও খুঁটিয়ে আলোচনা হয়েছে
- কৃষিক্ষেত্রে ধাক্কা এড়াতে সারের জোগান স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
অর্থাৎ, শক্তি থেকে কৃষি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে সুরক্ষিত রাখার রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জানান
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে হওয়া এই বৈঠকে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী তিন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
- কৃষকদের জন্য সারের জোগান নিশ্চিত করা
- প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির একাধিক বিকল্প পথ তৈরি
- রফতানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা
এই সব বিষয়েই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সবশেষে বার্তা একটাই যুদ্ধ যত দূরেই হোক, তার প্রভাব থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


