স্নেহা পাল, দিল্লি: ১৯৯০ এর দিকে তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) মন্দির থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় তিনটি প্রাচীন ব্রোঞ্জ মূর্তি। সেই মূর্তিগুলির মধ্যে ছিল একটি দ্বাদশ শতকের সোমাস্কন্দ মূর্তি, একটি ষোড়শ শতকের ‘সন্ত সুন্দরর ও পারাভাই’ এর ব্রোঞ্জ মূর্তি এবং প্রায় ৯৯০ খ্রিস্টাব্দের শিব নটরাজ মূর্তি। তিনটিই পবিত্র হিন্দু উপাস্য প্রতিমা। আজ আমেরিকার স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট (The Smithsonian’s National Museum of Asian Art) সেই মূর্তিগুলি ভারত সরকারকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আর্কাইভাল ছবিতে ফাঁস মূর্তি পাচারের প্রমাণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় শিল্প জাদুঘর এবং প্রথম এশীয় শিল্প সংগ্রহশালা স্মিথসোনিয়ানের গবেষকদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়, মূর্তিগুলি ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করে দেশ থেকে পাচার করা হয়েছিল। ফরাসি ইনস্টিটিউট অব পন্ডিচেরির (The French Institute of Pondicherry) সংরক্ষিত আর্কাইভাল ছবি থেকে এই মামলার সূত্রপাত হয়। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে তোলা সেই ছবিতে মূর্তিগুলি তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) বিভিন্ন মন্দিরে স্থাপিত অবস্থায় দেখা যায়। ভারতে এই ধরনের ‘ইন সিটু’ ছবি আইনি ভাবে মন্দিরের মালিকানার বৈধ প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।
প্রমাণ যাচাইয়ের পর ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI) নিশ্চিত করে যে, মূর্তিগুলি বেআইনিভাবে সরানো হয় এবং কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়াই বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। পরে সেগুলি আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারে বিক্রি হয়।
জাল নথিতে বিদেশে বিক্রি নটরাজ
শিব নটরাজ মূর্তিটি তাঞ্জাভুর (Tanjavur) জেলার শ্রী ভাবা ঔষধেশ্বর মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। ১৯৫৭ সালে সেখানে তোলা একটি ছবিতে মূর্তিটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরবর্তী কালে নিউ ইয়র্কের ডোরিস উইনার গ্যালারির (Doris Wiener Gallery) মাধ্যমে ২০০২ সালে এটি স্মিথসোনিয়ানের সংগ্রহে আসে। তদন্তে দেখা যায়, বিক্রির সময় প্রদত্ত উৎস সংক্রান্ত নথি আসলে জাল ছিল।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের ডিরেক্টর চেজ রবিনসন (Chase Robinson) বলেন, “আমরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি জানান, কঠোর গবেষণার ভিত্তিতেই এই ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিব নটরাজনের মূর্তিটি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টে দীর্ঘমেয়াদি ধার হিসেবে প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়ার জন্য রবিনসন ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।


