Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : দিল্লি (Delhi) বিধানসভা উড়িয়ে দেওয়ার বোমা হুমকি ঘিরে মঙ্গলবার সকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজধানীতে। স্পিকারের ইমেলে পরপর হুমকিমূলক বার্তা পৌঁছনোর পরই গোটা এলাকায় জারি হয়েছে হাই আল্যার্ট।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২৮ মিনিট নাগাদ প্রথম হুমকির ইমেলটি আসে। এরপর ৭টা ৪৯ মিনিটে আরেকটি ইমেল পৌঁছয়। উভয় মেলেই বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, একটি খালিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার পরিকল্পনা করছে।
স্পিকারের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইমেলে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করে ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নাম রয়েছে।
ঘটনার পরই দিল্লি (Delhi) বিধানসভা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, দমকল এবং বিপুল পুলিশ বাহিনী তল্লাশি শুরু করেছে। আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে, বিধানসভা সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনকেও সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে উল্লেখ করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হুমকির সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ইমেলের উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে দিল্লিতে (Delhi) একাধিকবার বোমা হুমকির ইমেল এসেছে। জানুয়ারিতে পাঁচটি স্কুলে একই ধরনের হুমকি পাঠানো হয়েছিল। তার আগের দিন দ্বারকা আদালত চত্বরে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ১৩টি স্কুলে ইমেল করে বিস্ফোরণের সময় পর্যন্ত জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি স্কুলে বোমা থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও একাধিকবার সামনে এসেছে। তবে এতবার হুমকি সত্ত্বেও ইমেলের প্রকৃত উৎস এখনও স্পষ্ট নয়।
ভোটের আগে এই ধরনের বোমা হুমকি সামনে আসায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রতিটি দিককে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হুমকি বার্তা বা সন্দেহজনক ঘটনাগুলি দ্রুত সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই হুমকির পিছনে ভুয়ো বার্তা ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করা, প্রশাসনিক চাপ বাড়ানো বা প্রচারমূলক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মত নিরাপত্তা সংস্থার। তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।


