23.4 C
Kolkata
Sunday, February 22, 2026
spot_img

৭০০ পরিবারের ছাদ কেড়ে তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন! ৬ মার্চ ডেডলাইন

নয়াদিল্লি: সরকারি জমিতে জবদখল করে বস্তি (Slums)! সমগ্র দেশের উন্নত এবং উন্নয়নমুখী শহরের এ যেমন কঠোর বাস্তব! তেমনই আর এক কঠোর বাস্তব হল, প্রায় কয়েক পুরুষ ধরে সেইসব বাড়িতে বসবাস করা মানুষদের নোটিশ ধরিয়ে উচ্ছেদ। আইনের সঙ্গে মানবিকতার এই লড়াই বহুদিনের। তাও আবার যদি হয়, দরিদ্র বস্তিবাসীর মাথার ছাদ উচ্ছেদ করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের মত কাজ-সেখানে তরজা তো থাকবেই।

বস্তুত, উত্তরপূর্ব দিল্লির রেস কোর্ট রোডের ভাই রাম ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প ও DID ক্যাম্পের বাসিন্দাদের আগামী ৬ মার্চের মধ্যে এলাকাটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে গৃহনির্মাণ ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ অনুসারে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সাভদা ঘেভরায় পুনর্বাসন নীতির আওতায় ওই তিন বস্তির (Slums) বাসিন্দাদের স্থায়ী বাড়ি বরাদ্দ করেছে।

প্রায় ৭১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে সেই সরকারি জমিতে তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া ওই নোটিশে বলা হয়, বস্তিগুলো সরকারি জমিতে অবস্থিত এবং দিল্লি নগর আশ্রয় উন্নয়ন বোর্ড (DUSIB) নীতি অনুসারে পুনর্বাসনের জন্য বাসিন্দাদের যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (DDA) এর সাথে সমন্বয় করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি যৌথ জরিপ পরিচালিত হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে যে যোগ্যতা প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং অনুমোদিত হয়েছে যার পরে সাভদা ঘেভরা DUSIB কলোনিতে বিকল্প বাসস্থান বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভারতে পুনর্বাসন নিশ্চিতের হার

বলা বাহুল্য, উন্নয়নের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বস্তি (Slums) উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি জমি থেকে উৎখাত করা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের (Rehabilitation) ঘোষণা হলেও তৃণমূল স্তরে দুর্ভাগ্যবশত অনেক্ষেত্রেই তা নিশ্চিত হয় না।বিশেষজ্ঞ ও রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭–২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত।

২০২২–২০২৩ সালে অন্তত ৭৪০,০০০ লোক বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছেদ হয়েছে। যেখানে পুনর্বাসনের তথ্য পাওয়া গেছে, সেখানে কেবল ২৫টি স্থানে পূর্ণ পুনর্বাসন (Rehabilitation) এবং ৭টিতে আংশিক পুনর্বাসন হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৭২% ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি, ফলে বহু পরিবার এখনও ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছে। মুম্বই ও দিল্লির পুনর্বাসন প্রকল্পগুলো পরিকল্পিত হলেও বাস্তবায়ন খুবই ধীর। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বইয়ের পুনর্বাসন (Rehabilitation) প্রকল্পের লক্ষ্য মাত্র ২৫%ই পূরণ হয়েছে তিন বছরে।

এই সমস্যা শুধু শহুরে এলাকার সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ হলেও, দরিদ্রদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রায়শই অসম্পূর্ণ থাকে। ফলে পরিবারগুলো অস্থির, ঘরছাড়া ও মানবিক সহায়তার জন্য অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়ন ও মানবিক নীতি একসাথে সামঞ্জস্য করা জরুরি, যাতে উচ্ছেদ হয়, কিন্তু বাসিন্দারা পুনর্বাসনের মাধ্যমে নিরাপদ জীবন পেতে পারেন। না হলে, বৃহৎ উচ্ছেদ কর্মসূচি শুধু নগর পরিকল্পনার অংশ নয়, মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন