চণ্ডীগড়: বিদ্বেষের রাজনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হিন্দু-মুসলিমের (Hindu-Muslim) নিবিড় সৌভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! পাঞ্জাবে হিন্দু-মুসলিমের অনন্য বন্ধন। ঐক্যের মানবিক কাহিনি ছুঁয়ে গেল মন। এর আগে পাঞ্জাবের সঙ্গরুরে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করে নজির গড়েছিল এক হিন্দু পরিবার। এবার এক মুসলিম পরিবার হনুমান মন্দির (Hanuman Mandir) নির্মাণের জন্য বহুমূল্য জমি দান করল।
ঘটনা পাঞ্জাবেরই মোহালি জেলার ঝামপুর গ্রামের। জানা গিয়েছে, পাঞ্জাবের মোহালি জেলার ঝামপুর গ্রামে মহম্মদ ইমরান ওরফে হ্যাপ্পি মল্লিক হনুমান মন্দির নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩২৫ শ্রেণী গজ জমি দান করেছেন। শুধু জমি দানই নয়, মন্দির নির্মাণের খরচও বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহম্মদ ইমরান। স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন, গ্রামে মন্দির বানানোর জন্য কোনও উপযুক্ত খালি জমি ছিল না। হিন্দুদের উপাসনাস্থল নির্মাণে তাই এগিয়ে আসেন মুসলিম ভাই মহম্মদ ইমরান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শাহী ইমাম
গত ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দান করেন তিনি। ইমরান আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির কমিটির সদস্য রাজারামের কাছে রেজিস্ট্রি নথি হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবের শাহী ইমাম, মাওলানা মোহাম্মদ উসমান রেহমান লুধিয়ানভি। হবন যজ্ঞের পর মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই জমিতে একটি হনুমান মন্দির (Hanuman Mandir) এবং একটি সনাতন ধর্ম মন্দির নির্মিত হবে। পরিকল্পনা মাফিক, হনুমান মন্দিরটি প্রায় ২ কাঠা জমির উপর এবং সনাতন ধর্ম মন্দিরটি প্রায় সাড়ে ৬ কাঠা জমির উপর নির্মিত হবে, বলে জানা গিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শাহী ইমাম বলেন, পাঞ্জাবের মাটি থেকে হিন্দু-মুসলিম (Hindu-Muslim) নিবিড় সৌভ্রাতৃত্বের এই দৃষ্টান্ত সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়বে। মাওলানা লুধিয়ানভির মতে, ইমরান নিজেই এগিয়ে এসে জমি দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে যদি এর ফলে হিন্দু ভাইদের উপকার হয়, তাহলে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।
মন্দির কমিটির সদস্য রাজারাম এই উদ্যোগকে সম্প্রদায়ের জন্য আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে ইমরান এবং শাহী ইমামের জন্য তাদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। তিনি ঝাঁপুর গ্রামের মানুষকে সর্বদা একে অপরের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। রাজারাম বলেন যে এখানে কেউই নিজেদেরকে হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান হিসেবে দেখে না, বরং সবাই ভ্রাতৃত্বের সাথে বাস করে।


