লোকসভায় কথা বলার সুযোগ পাওয়া এখন প্রায় বিলাসিতা। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে চলছে বিতর্ক। এমন পরিস্থিতিতে স্পিকার (Speaker) ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলেন সাংসদরা।
সংবিধানের ৯৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের (Speaker) অপসারণ চেয়ে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া যায়। দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সেই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিলেন বিরোধীরা। ডিএমকের টি আর বালু, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব সহ মোট ১১৯ জন সাংসদ সেই নোটিশে স্বাক্ষর করেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সংসদে বক্তব্য রাখার বদলে সাসপেনশনই যেন এখন বেশি সহজ।
নোটিসে বলা হয়েছে, স্পিকার (Speaker) কার্যত শাসকদলের মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবস্থা না নেওয়া থেকে শুরু করে মহিলা সাংসদদের নিয়ে ওঠা অভিযোগ, সব ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন স্পিকার।
সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার (Speaker) অপসারণের আগে ১৪ দিনের অপেক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন সংখ্যার খেলায় এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অনাস্থা প্রস্তাব থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। তার থেকেও বড় কথা, যাকে নিয়ে এই বিতর্ক সেই রাহুল গান্ধী নিজেই এই অনাস্থা প্রস্তাব স্বাক্ষর করেননি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে লোকসভায় বারবার মুলতুবি হয়েছে অধিবেশন। মঙ্গলবারও অনাস্থা নোটিস জমা পড়ার পর দুপুর ২টো পর্যন্ত সভা স্থগিত করা হয়।


