Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (CEC Impeachment) প্রস্তাব আনার ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ইমপিচমেন্ট আনতে সংসদের দুই কক্ষেই স্বাক্ষর সংগ্রহ প্রায় সম্পূর্ণ করলো বিরোধী শিবির।
সূত্রের খবর, লোকসভায় জমা দেওয়ার জন্য তৈরি খসড়া ইমপিচমেন্ট (CEC Impeachment) প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই ১৩০ জনেরও বেশি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব জমা দিতে অন্তত ১০০ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। রাজ্যসভাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় ৫০ জনের পরিবর্তে ৬০ জনেরও বেশি সাংসদ ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতৃত্বই বিভিন্ন বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় এনে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত গড়ে তুলেছে।
লোকসভায় সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের উপনেত্রী শতাব্দী রায়কে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই তিনি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব থেকেই তিনি বিভিন্ন বিরোধী সাংসদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শতাব্দী রায়ের উদ্যোগে লোকসভায় কয়েকজন নির্দল সাংসদও এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় বিরোধী সাংসদদের সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য হুইপ নাদিমুল হক।
স্বাক্ষর সংগ্রহ সম্পূর্ণ হলে বিরোধী শিবির সংসদের দুই কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দেবে। এরপর লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হবে কি না। যদি আলোচনা অনুমোদন পায়, তবে বিতর্কের পর প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে তোলা হবে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইমপিচমেন্ট (CEC Impeachment) প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং সাংসদদের ব্যাপক সমর্থনের উপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, এর আগেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী শিবির সেই প্রস্তাব তুললেও সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দীর্ঘ বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায় এবং ওম বিড়লা স্পিকারের পদেই বহাল থাকেন। এই বারেও একই ঘটনা ঘটবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।


