দেবী, নয়াদিল্লি: নারী জন্ম সহজ নয়। জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা বাধা, সামাজিক চাপ আর শারীরিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই এগোতে হয় তাঁদের। তবু থেমে থাকেন না নারীরা। কেউ মহাকাশে পাড়ি দেন, কেউ যুদ্ধবিমান উড়ান, কেউ বা আইপিএস অফিসার, চিকিৎসক, শিক্ষিকা কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দায়িত্ব সামলান সমান দক্ষতায়। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের কাজের পরিধি ও দায়ভার পুরুষদের থেকেও বেশি। এমনকি ঋতুচক্রের (Menstrual Leave) মতো শারীরিক যন্ত্রণার সময়েও নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যান না তাঁরা; বরং নিষ্ঠা আর দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যান। প্রতিদিনের সংগ্রাম আর সাফল্যের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করে দেন, সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার নামই নারী।
এই বাস্তবতার মধ্যেই ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষের দাবি ছিল, আদালত যেন রাজ্যগুলিকে ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেয়। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর মন্তব্য, ঋতুকালীন ছুটি যদি আইন করে বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে অনেক সংস্থাই ভবিষ্যতে মহিলা কর্মীদের নিয়োগ করতে অনীহা দেখাতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
নারীদের শারীরিক বাস্তবতা ও কর্মক্ষেত্রে সমতার প্রশ্ন
ছাত্রী হন বা মহিলা কর্মী, ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) বাধ্যতামূলক করার আবেদন নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম করতে সওয়াল করেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী । উদাহরণ হিসেবে তিনি কেরলের কথা তুলে ধরেন। ২০১৩ সালে কেরলে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটি দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও ঋতুকালীন ছুটি দেয়। সব রাজ্যে এই নিয়ম আইনিভাবে কার্যকর করতে মহিলাদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান আইনজীবী।
“মহিলা কর্মীদের চাকরি দেবে না”
কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তার কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) নিলে সংস্থাগুলি মহিলাদের নিয়োগ করবে। শুধু তাই নয়, ঋতুকে খারাপ নজরেও দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। এই নিয়ে মহিলাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন পরিবার, কর্মক্ষেত্রে পুরুষের মত সমানাধিকারের জন্য লড়াই করছেন মহিলারা, সেখানে এই ভেদাভেদ মহিলাদের অবস্থানকে আরও খাটো করবে, বলে মনে করছেন একাংশ নারী। অন্যদিকে, নারীদের এই কঠোর বাস্তবতার প্রতি কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের যত্নশীল ও সহমর্মী হওয়া প্রয়োজন আছে বলে মত অনেকের।


