Aaj lndia Desk, ছত্তিসগড় : পুজো সেরে ফিরছিলেন… কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হল না। আচমকাই নেমে এল মর্মান্তিক বিপর্যয়।ছত্তিসগড় (Chhattisgarh) – এর মহাসমুন্দ জেলায় রোপওয়ের ট্রলির কেবল ছিঁড়ে পড়ে যাওয়ায় ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনায় প্রাণ হারান এক মহিলা, গুরুতর আহত হন অন্তত সাতজন। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দঘন যাত্রা বদলে যায় আতঙ্ক আর শোকে।দুর্ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই (Vishnu Deo Sai)। স্পষ্ট বার্তা কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাই, যে বা যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে অনুমান, রোপওয়ের কেবলে ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে পর্যটনস্থলে নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে কি কোথাও গাফিলতি ছিল? এক মুহূর্তের অবহেলা কেড়ে নিল একটি প্রাণ
আর রেখে গেল একগুচ্ছ প্রশ্ন, যার উত্তর এখন খুঁজছে গোটা প্রশাসন।
রবিবার মহাসমুন্দ জেলার খাল্লারি গ্রামে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নবরাত্রি উপলক্ষে ভক্তরা খাল্লারি মাতার মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। পাহাড়ের উপরে বাগভরা এলাকায় মন্দির দর্শন শেষে তাঁরা রোপওয়ের ট্রলিতে চেপে নিচে ফিরছিলেন।হঠাৎই ঘটে বিপর্যয় রোপওয়ের তার ছিঁড়ে পড়ে ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ট্রলিতে থাকা আটজন পূণ্যার্থীর মধ্যে এক মহিলার মৃত্যু হয়, যিনি রায়পুরের বাসিন্দা আয়ুষি সতকার (২৮)। এছাড়া ঘটনায় আহত হন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে শিশু ও মহিলা রয়েছেন।ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং রোপওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ হয়েছে কি না।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রোপওয়ের তার ছিঁড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই মূল কারণ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ছত্তিসগড়ের (Chhattisgarh) মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলীয় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের দ্রুত ও উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন প্রশাসনিক দফতরকে।
সব মিলিয়ে, প্রশাসন সর্তক অবস্থানে রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে এবং আহতদের দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।


