চেন্নাই: প্রেমিকার সঙ্গে লিভ ইন (Live-in Relation) সম্পর্কে আছেন? তাহলে কিন্তু তাঁকে দিতে হবে স্ত্রীয়ের মর্যাদা। এই লিভ ইন সম্পর্ককে ভারতীয় ‘গান্ধর্ব বিবাহের’ ঐতিহ্যের মত দেখতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras Highcourt)।
অনেক মহিলাই প্রতারিত
একবিংশ শতাব্দীতে যে-কোনও মানুষের নিজের সঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। তাকে বৈধতা দিয়েছে খোদ আদালত। বর্তমান যুগে বহু যুগলই বিয়ের ঝক্কির পরিবর্তে লিভ ইন (Live-in Relation) সম্পর্কে থাকা পছন্দ করেন। তবে অনেক্ষেত্রেই দেখা যায় লিভ ইন সম্পর্কে যাওয়ার পর মহিলারা বঞ্চিত এমনকি প্রতারিতও হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই লিভ ইন পার্টনারকে স্ত্রীয়ের মর্যাদা দেওয়া জরুরী বলে জানিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras Highcourt)।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ
বস্তুত, তিরুচিরাপল্লির এক ব্যক্তি মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের কাছে আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে যান। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রেমিকার সঙ্গে তিনি লিভ ইন (Live-in Relation) সম্পর্কে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ রয়েছে এবং প্রেমিকার বয়ানে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন। এই আশঙ্কায় আদালতের কাছে আগাম জামিন চাইতে যান তিনি।
সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি এস শ্রীমাথি পর্যবেক্ষণ করেন, লিভ-ইন সম্পর্ক আসলে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর এক ধরনের আঘাত। আধুনিকতার নামে বহু মহিলা লিভ-ইন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন—বিয়ে যে সুরক্ষা দেয়, লিভ-ইন তা দিতে পারে না। আদালত উল্লেখ করে, প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে বিবাহের আট প্রকারের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে গান্ধর্ব বিবাহে সামাজিক রীতির প্রয়োজন নেই। পারস্পরিক প্রেম ও সম্মতিতেই একসঙ্গে থাকার স্বীকৃতি রয়েছে। আজকের লিভ ইন (Live-in Relation) সম্পর্ককেও সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে তবেই মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব, নচেৎ তারা শোষণের শিকার হতেই থাকবে।
বিচারপতি শ্রীমাথি আরও বলেন, মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়া আদালতের কর্তব্য, তবে তাদের সচেতন হওয়াও জরুরি। আইনের ফাঁক গলে একাংশ পুরুষ লিভ-ইন সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা অস্বীকার করে—এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরুষদের অবশ্যই এর ফল ভোগ করতে হবে। মামলার শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।


