Aaj India Desk, জয়পুর : রাজস্থানে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে গরু চরানোকে (Cow Grazing) আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হল। ‘গাঁও গোয়ালা যোজনা’ নামে নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক ‘রাখাল’ নিয়োগ শুরু হয়েছে।
মদন দিলাওয়ার কোটা জেলায় এই প্রকল্পের সূচনা করেন। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি গ্রাম থেকে ১৪ জন ‘রাখাল’ নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁদের পাগড়ি ও মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। প্রকল্পে রাখালদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের ঘোষণা থাকলেও সেই অর্থ সরকার দেবে না। সেই অর্থ আসবে জনসাধারণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুদান থেকে।
রাজ্য সরকারের দাবি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পশুপালনকে সংগঠিত করতেই এই প্রকল্প। আগে গ্রামবাসীরাই নিজেদের গরু চরাতেন। কিন্তু কর্মসংস্থানের খোঁজে বাইরে যাওয়া ও গ্রামীণ জীবনের পরিবর্তনে সেই অভ্যাস কমেছে। ফলে পশুপালন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ৭০টি গরুর জন্য একজন ‘রাখাল’ নিয়োগ হবে। গরুর সংখ্যা বাড়লে দু’জন বা তিনজনও হতে পারেন। প্রত্যেকের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা। সরকারের মতে, এতে গ্রামীণ সমাজের অংশগ্রহণ বাড়বে।
তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গরুর দুধ পান করলে মানুষ বেশি সক্রিয় ও বুদ্ধিমান হন, আর মহিষের দুধ নাকি মানুষকে অলস করে তোলে। এই দাবির পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
যখন দেশ এগোচ্ছে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয়তার পথে, তখন কর্মসংস্থানের তালিকায় ‘গরু চরানো’ (Cow Grazing) যোগ হওয়া যেন উন্নয়নের ঘড়িতে খানিকটা উল্টো কাঁটার চলা বলে কটাক্ষ করেছেন সমালোচকরা। তবে সমর্থকদের পালটা দাবি, এটি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, সংস্কৃতি রক্ষা আর কর্মসংস্থান ফেরানোর চেষ্টা মাত্র।


