Aaj India Desk, কলকাতা : কলেজ থেকে ডিগ্রি হাতে বেরোচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী। কিন্তু সেই ডিগ্রি কি আদৌ তাদের কর্মজীবনের (YouthEmployment) দরজা খুলে দিচ্ছে? বাস্তব জীবনে দেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটলেও কর্মসংস্থানের বাজারে “ডিগ্রি” আর একমাত্র পরিচয় নয় বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।
বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পসংস্থার রিপোর্ট বলছে, ভারতের শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। ২০২৫ সালের India’s Graduate Skill Index রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে স্নাতকদের মাত্র ৪২.৬ শতাংশকে নিয়োগযোগ্য (employable) বলে মনে করেন নিয়োগকর্তারা। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট কর্মক্ষেত্রে সরাসরি কাজ করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না।
পাঠ্যক্রম বনাম কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ফাঁক। ভারতবর্ষের অধিকাংশ কলেজে এখনো তাত্ত্বিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা বা প্রকল্পভিত্তিক শেখার সুযোগ সীমিত। ফলে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেও বাস্তব সমস্যার সমাধান, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সৃজনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণে পিছিয়ে পড়ছে।
সফট স্কিলের ঘাটতি
চাকরির বাজারে এখন কেবল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। নিয়োগকর্তারা খুঁজছেন যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতা। কিন্তু রিপোর্টে দেখা গেছে, এই দক্ষতাগুলির ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে নিয়োগযোগ্যতার হার মাত্র ৪৪ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশও দক্ষতার এই ব্যবধানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। বর্তমানে AI ও মেশিন লার্নিং সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৪৬ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট এই ক্ষেত্রগুলিতে কাজের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতি রয়ে গেছে।(YouthEmployment)
কলেজের বাইরে শেখার প্রবণতা
এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী এখন অনলাইন কোর্স, ইন্টার্নশিপ বা স্কিল-ট্রেনিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। শিল্পমহলের মতে, কলেজ-শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করা গেলে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব।
ভবিষ্যতের পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার সমাধান তিন দিক থেকে আসতে হবে—
- কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়: পাঠ্যক্রমকে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা
- শিক্ষার্থী: প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো
- কোম্পানি: প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি করা
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরুণ জনসংখ্যার দেশ। এই জনশক্তি যদি সঠিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তবে তা অর্থনীতির জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতার ওপর জোর দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।


