29 C
Kolkata
Sunday, April 5, 2026
spot_img

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি ফিরছে উষ্ণতা? নজরে ১৮ এপ্রিলের বৈঠক

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে? গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে কি এবার বড় কোনও সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলছে? ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে বহুল আলোচিত গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি (Ganga Water Sharing Treaty)-এর মেয়াদ। সেই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে নতুন করে কি চুক্তি হবে, নাকি শর্ত বদলে তৈরি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাঠামো?এই আবহেই চলতি এপ্রিল মাসে দিল্লি সফরে আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। তাঁর এই সফরকে ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকই ভবিষ্যতের সম্পর্কের রূপরেখা ঠিক করতে পারে। গঙ্গার জল শুধু নদীর প্রবাহ নয় এটি দুই দেশের কৃষি, অর্থনীতি ও সীমান্তবর্তী মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে নতুন চুক্তি হলে তা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না,বরং বাস্তবে বড় প্রভাব ফেলবে দুই দেশের উপর।এখন প্রশ্ন একটাই পুরনো সমঝোতার পথেই হাঁটবে দুই দেশ, নাকি গঙ্গার স্রোতের মতোই বদলে যাবে সম্পর্কের দিক?

সূত্রের ইঙ্গিত, জলবণ্টনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১৮ এপ্রিল নয়া দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)।বাংলাদেশে বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) ক্ষমতায় আসার পর, এই বৈঠকই হতে চলেছে দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই সাক্ষাৎ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি বৈঠক নয় বরং ভবিষ্যতের সম্পর্কের দিক নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। গঙ্গার জলবণ্টন থেকে শুরু করে সীমান্ত, বাণিজ্য সব ইস্যুতেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলতে পারে এই আলোচনায়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) -এর নেতৃত্বে দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় ভারত – বাংলাদেশ সম্পর্কে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কূটনৈতিক টানাপোড়েন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যেও ধরা পড়ে।তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। তারেক রহমান (Tarique Rahman) ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক ফের উষ্ণ হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।তাঁর মা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) যা কূটনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি সম্পর্কের নতুন বার্তা বহন করে।এছাড়াও, তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ভারতের আমন্ত্রণ পাওয়া, দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সেতুবন্ধনের সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে দিল্লি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবার সেই ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর আবেদন জানাতে পারে ঢাকা এমনটাই কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে।নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান (Tarique Rahman ) সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও সম্মানজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও, সূত্রের খবর ভারত সফরে এসে তারেক রহমান নিজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। সম্ভাব্য এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে আসন্ন কূটনৈতিক বৈঠক।সব মিলিয়ে, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে? সেই উত্তর খুঁজছে দুই দেশের কূটনৈতিক মহল।

 

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন