Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে বিশাল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ, যেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথিভুক্ত করা হবে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য। প্রায় এক বছরের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা (Census), যেখানে এবার জাতিগত তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কীভাবে হবে এই গণনা ?
ভারত বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জনসংখ্যার নিরিখে চিনকে পিছনে ফেলে শীর্ষ স্থানে পৌঁছায় ভারত। করোনা বিলম্বের পর এবার অবশেষে ফের জনসংখ্যা গণনার (Census) কাজ চালু হচ্ছে ভারতে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে একটি স্বল্প সময়ের জন্য অনলাইনে নিজে তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর দু’দফায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। প্রথম ধাপে বাড়ি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে নাগরিকদের সংখ্যা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে। জনগণনা কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানান, “এই সমীক্ষা সম্পূর্ণ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।”
ডিজিটাল সেন্সাস
তবে এই বার ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং জনগণনা (Census) শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এটি ভারতের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা। তথ্য সংগ্রহের গতি ও নির্ভুলতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জনগণনা কমিশন।
জাতিগত তথ্যেও নজর
তবে এবারের জনগণনায় জাতিগত তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য দীর্ঘদিন ধরেই অনুপস্থিত। এর ফলে কোন শ্রেণি কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়।সমর্থকদের দাবি, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সঠিক তথ্য জানা গেলে সরকারি সাহায্য ও সংরক্ষণ নীতিতে তা কাজে লাগবে।অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, উন্নয়নশীল দেশে জাতিগত বিভাজনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের মতে, একটি উন্নয়নশীল এবং বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে এগোতে চাওয়া দেশের জন্য জাতিগত পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। এতে সামাজিক ঐক্য ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণও বাড়তে পারে বলে তাঁদের মত। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে দীর্ঘ ৮০ বছর পর জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও সেই তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে, জাতিগত তথ্য সংগ্রহ কতটা প্রয়োজনীয় এবং এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।


