স্নেহা পাল, নয়াদিল্লি : সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের খাদ্যমান নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই ভারতের খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু নতুন বিতর্ক।
ভোক্তা সচেতনতা প্ল্যাটফর্ম ট্রাস্টিফায়েডের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ঘিরে তৈরি হয় এই বিতর্ক। সেই ভিডিওতে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের সংশোধিত নিয়মের তুলনা করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিতর্ক
ট্রাস্টিফায়েডের দাবি, ২০২৪ সালে Everest এবং MDH এর মত কয়েকটি পরিচিত মশলার ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। ওই বছরের মধ্যেই ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI মশলায় নির্দিষ্ট কিছু কীটনাশকের সর্বোচ্চ অবশিষ্ট সীমা (MRL) ০.০১ মিলিগ্রাম/কেজি থেকে বাড়িয়ে ০.১ মিলিগ্রাম/কেজি করে এবং উক্ত মশলার ব্র্যান্ড গুলিকে নিরাপদ বলে জানায়।
ভারতের নিয়মে শিথিলতা?
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো ০.০১ মিলিগ্রাম/কেজির কঠোর মান বজায় রেখেছে। ফলে যে পণ্য ইউরোপীয় মানে ব্যর্থ, তা ভারতের সংশোধিত নিয়মে পাশ করে যায়।
ল্যাব রিপোর্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন
ভিডিওতে ট্রাস্টিফায়েডের প্রতিষ্ঠাতা নেসলে সংস্থার ম্যাগি মশলার সাম্প্রতিক ল্যাব পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই পণ্যটি ইউরোপীয় মান পূরণ করতে না পারলেও FSSAI সংশোধিত নিয়মের কারণে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যে অতিরিক্ত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়মিতভাবে এমন খাদ্য গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে মনে করা হয়।
ফলে ভোক্তাদের স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রাস্টিফায়েড জানিয়েছে, তারা এখন থেকে তাদের রিপোর্টে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও FSSAI , উভয় মানই উল্লেখ করবে। তবে FSSAI থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


