পৌলমী ব্যানার্জী, লখনউ: আমাদের সমাজ তথা বিচারব্যবস্থার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক নজির তৈরি করল উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত। মাত্র ৬ বছরের এক একরত্তি (Minor Rape) শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে খুনের অপরাধে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। এই মামলার রায় এবং বিচারের গতি— দুইই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সাধারণত এই ধরনের মামলার বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আইন চলেছে ঝড়ের গতিতে। ঘটনার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে। বিচারব্যবস্থার এই তৎপরতা বার্তা দিয়েছে যে, শিশুদের ওপর হওয়া কোনো অপরাধই সহজে পার পাবে না।
৪৬ পাতার এক বিস্তারিত রায়ে আদালত এই অপরাধকে “বিরলতম থেকে বিরলতম” বিভাগভুক্ত করেছে। বিচারকের মতে, এই কাজ ছিল পৈশাচিক, অমানবিক এবং সভ্য সমাজের কলঙ্ক। এই কঠোরতম শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, অপরাধীদের মনে ভয় জাগানো এবং নির্যাতিতার পরিবারের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করাই আইনের মূল লক্ষ্য।
একটি নিস্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার ক্ষত হয়তো কোনোদিন মিটবে না, কিন্তু এই দ্রুত এবং কড়া রায় মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। নাবালিকাদের (Minor Rape) নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপোষহীন মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা|


