Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: গত শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal assembly election) ইস্তেহার প্রকাশ করল। কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee ) – এর সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তৃণমূলনেত্রী ৬টি ভাষায় নির্বাচন ইস্তেহার ঘোষণা করেন। ইস্তেহাররের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১০টি প্রতিশ্রুতি, যা দাবি করা হয়েছে রাজ্যের মহিলা, যুবক, কৃষক এবং সাধারণ পরিবারসহ প্রায় সকল স্তরের মানুষের জন্য।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যত চমকপ্রদ হলেও বাস্তবায়ন যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ‘কীভাবে সব স্তরের মানুষকে একইসাথে সব সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে?’ এটি এখনও অনির্দিষ্ট। এবার নির্বাচনী টানাপোড়েন বিপক্ষের দিকে, শোনা যাচ্ছে আগামী ২৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে পারে বিজেপি (BJP)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নিজেই এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির ইশতেহার কেবল তৃণমূলের প্রতিশ্রুতিকে চ্যালেঞ্জ করবে না, বরং সোশ্যাল ইস্যু এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে সরাসরি আক্রমণও হতে পারে। রাজনীতির এই যুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের জন্য এক প্রশ্ন রয়ে গেছ , প্রতিশ্রুতি বাস্তব কি, নাকি নির্বাচনী নাটক মাত্র?
বিজেপি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ২৫৫টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি প্রার্থীদের নাম এই সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় দফার নির্বাচনি প্রচারে রাজ্যে আসতে পারেন। সম্ভাব্য সূচনায় তিনি কোচবিহার থেকে প্রচারাভিযান শুরু করতে পারেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্ম শিবির রাজ্যে নির্বাচনের মূল পর্বের প্রচার শুরু করতে চায়। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ও প্রচার কর্মসূচি প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে।এদিকে, এই সপ্তাহে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রকাশ্য সভা বা নির্বাচনি প্রচারের সূচি ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রচার কৌশলের সূচনা মাত্র, এবং ভোটযুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শুরুর আগে বিজেপি ভিত্তি মজবুত করছে।
বিজেপি এখনও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইশতেহার আনেনি, কিন্তু ইতিমধ্যেই কিছু প্রতিশ্রুতি আগাম ঘোষণা করা শুরু করেছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশনের নিরিখে ডিএ প্রদান সবই হবে। পাশপাশি বিজেপি এও বলছে, যারা ‘পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায়’ পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন, তাঁদের এক বছরের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে রাজ্যে। পাশাপাশি ভারী শিল্পে বিনিয়োগ টেনে আনা ও কৃষি-শিল্পের সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন এত বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব কি না? একই সঙ্গে, ‘তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ হবে না ‘ বললেও জানানো হয়েছে, তবে বাস্তবের মাটিতে এ ধরনের ঘোষণা কতটা যথার্থ, তা বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্যের ভোটের ময়দানে এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল ভোটার মন জয় করার কৌশল কি, নাকি সত্যিই বাস্তবায়ন হবে এ নিয়ে সর্তক সমালোচনা শুরু হয়েছে।


