স্নেহা পাল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) মোরাদাবাদ জেলার পাকবাড়া থানা এলাকায় আন্তঃধর্মীয় প্রেমিক যুগলকে পিটিয়ে খুন (Honour Killing) করার অভিযোগ। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় উমরি সব্জিপুর গ্রামের উপকণ্ঠে একটি মন্দিরের পিছন থেকে ২৪ বছরের মহম্মদ আরমান (Mohd Arman) ও ১৮ বছরের কাজল সাইনির (Kajal Saini) দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে আরমান কাজলের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং মারধরের পর দু’জনকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর আরমানের পরিবার মোরাদাবাদের এসএসপি (SSP) সতপাল অন্তিলের (Satpal Antil) কাছে নিখোঁজের অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, খুনের পর দেহ দুটি গগন নদীর কাছে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশের জেরার মুখে কাজলের পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ে দেহ লুকিয়ে রাখার জায়গার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে দেহ দুটি উদ্ধার করে। খুনে ব্যবহৃত একটি বেলচাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
আরমানের পরিবারের করা FIR এর ভিত্তিতে কাজলের দুই ভাই রিঙ্কু সাইনি (Rinku Saini) ও সতীশ সাইনিকে (Satish Saini) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। SP কুমার রণবিজয় (Kumar Ranvijay) জানান, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মামলার সব দিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে তদন্ত করা হচ্ছে। দেহ উদ্ধারের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও অতিরিক্ত পুলিশ ও পিএসি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
উত্তরপ্রদেশে (Uttarpradesh ) একাধিকবার উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলার সাফল্যের দাবি শোনা গেলেও এমন ঘটনা রাজ্যের সামাজিক বাস্তবতার অন্য ছবি তুলে ধরছে। আইন অনুযায়ী এই অপরাধ গুরুতর ও কঠোর শাস্তিযোগ্য হলেও, ঘনঘন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করছে যে সমাজের মানসিকতা এবং পরিকাঠামো দুই ই আরো উন্নত হওয়া প্রয়োজন।


