নয়াদিল্লি: দেশের বাস্তব চিত্রের সংসদে উলট পূরাণ! আমেরিকা ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের আঁচ ভারতের রান্নাঘরে! মুম্বই, ব্যাঙ্গালোর, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ছত্তিসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু সহ পশ্চিমবঙ্গে জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) চিত্র স্পষ্ট। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে উঠে আসছে, কোথাও মিড ডে মিল, অফিসের ক্যান্টিন, ছাত্রাবাসে পর্যাপ্ত খাবার মিলছে না। তো কোনও রাজ্যে আবার একধাক্কায় বহু বিয়েবাড়ি বাতিল হয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে।
গ্যাসের গুদামের বাইরে লম্বা লাইন, হোটেল রেস্তোরাঁর মেনুতে কাটছাঁট। কলকাতা শহরে অফিসপাড়ার বেষ কয়েকটি দোকান বন্ধ। বাকিরা ফিরেছেন কাঠের জ্বালে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের একাধিক মন্দিরে ভোগ বিতরণ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস বুকিং করেও মিলছে না সিলিন্ডার। ডিলারের দোকানের বাইরে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন সাধারণ মানুষ। ওদিকে, পেট্রোল পাম্পেও সিএনজির জন্য ভিড়। কিন্তু এসব ছবিকে সংসদে কার্যত মিথ্যা প্রমাণ করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)। তাঁর কথায় “দেশে গ্যাস, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক। কোনও সংকট (Fuel Crisis) নেই!”
বিরোধীদের তোপ
এর আগে জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) নেই বলে দাবী করেছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। যদিও কেন্দ্র সরকারের এই দাবীকে বিরোধী দলগুলো গোড়া থেকেই খারিজ করে আসছে। বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে থালাবাসন ও প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার হাতে বিক্ষোভে সামিল হন বিরোধী সাংসদরা। জ্বালানি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই প্রতীকী আন্দোলন করা হয়। এদিন সংসদের ভেতরেও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। পাশাপাশি, সোমবার জ্বালানি সংকটের জন্য কেন্দ্র সরকারের নীতির ত্রুটির অভিযোগকে সামনে রেখে রাজপথে মিছিল করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কি বললেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী?
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর (Hardeep Singh Puri) দাবী, দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে এবং পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনও ঘাটতি (Fuel Crisis) নেই। তিনি বলেন, ভারতের হাতে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং তেল-গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি সিএনজি ১০০ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এলএনজি সরবরাহেও কোনও সমস্যা নেই।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রভাবে যেখানে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, ভারতে তার বড় প্রভাব পড়েনি। গত পাঁচ দিনে এলপিজির উৎপাদনও বেড়েছে এবং বুকিংয়ের প্রায় আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, গ্যাসের সংকটের (Fuel Crisis) জন্য মূলত কালোবাজারিকেই দায়ী করেন হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri)।


