স্নেহা পাল, দিল্লি: ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এবার ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত একটি সরকারি মানচিত্র ঘিরে তৈরি হল প্রবল বিতর্ক।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র একটি সরকারি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে সম্পূর্ণ জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল , পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ও আকসাই চিনকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখানো হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) এই মানচিত্রটি ভারত যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে।
কৌশলগত ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের
এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে PoK এবং আকসাই চিনকে ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ হিসেবে দেখানো হতো। নতুন মানচিত্রে সেই অবস্থান থেকে স্পষ্ট সরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মানচিত্র প্রকাশ ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।
অস্বস্তিতে পাকিস্তান, ব্যর্থ লবিং
একই সঙ্গে এই মানচিত্র পাকিস্তান ও চিনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু তুলে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে একাধিক উদ্যোগ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এমনকি পাকিস্তান সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতও করে। তবুও কাশ্মীর প্রশ্নে মার্কিন মানচিত্রে পাকিস্তানের দাবি প্রতিফলিত হয়নি।
চিনের দাবিকে নস্যাৎ
চিনের ক্ষেত্রেও এই মানচিত্র তাৎপর্যপূর্ণ। আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো চিনের দীর্ঘদিনের দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দেয়।
পুরনো আপত্তির প্রতিফলন
অতীতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বারবার আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সীমান্ত সংক্রান্ত ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। নতুন মার্কিন মানচিত্র সেই আপত্তির প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই এই মানচিত্র প্রকাশকে ‘কার্টোগ্রাফিক ডিপ্লোমেসি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক (অবসরপ্রাপ্ত) মেজর গৌরব আর্য এই মানচিত্রকে স্বাগত জানান।
যুক্তরাষ্ট্র আলাদা করে কোন ব্যাখ্যা না দিলেও সরকারি সংস্থার প্রকাশিত মানচিত্রে কোনও ‘ডিসক্লেইমার’ না থাকায় এর কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।


