নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে দেশে জ্বালানি সংকটের (Fuel Crisis) জন্য কেন্দ্র সরকারের নীতিকে দায়ী করে সোমবার মিছিল কোর্টে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে শুক্রবার সংসদের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলা তৃণমূল সাংসদরা। একদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, হরদীপ সিং পুরীর দাবী, দেশে জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) নেই। সাপ্লাই ও ঠিকঠাক, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছবিটা কার্যত স্পষ্ট। এমনটাই দাবী করছে তৃণমূল।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেও গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি গ্যাসের জন্য হাহাকার উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। ডিলারের দোকানের সামনে মানুষের লম্বা লাইন। সিএনজির জন্য পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছেন অটোচালকরা। অনেক জায়গাতেই হাসপাতাল, স্কুলের মিড ডে মিল, অফিস-ছাত্রাবাসের ক্যান্টিন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ কোর্টে হয়েছে।
বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ, পাইস হোটেল। অনেকেই আবার ব্যবসা চালু রাখতে কাঠের জ্বালে ফিরেছেন। কলকাতার ইস্কন, দীঘার জগন্নাথ মন্দির সহ বেশ কিছু মন্দিরের ভোগ বিতরণে কাটছাঁট করা হয়েছে। আবার কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ। পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগও উঠছে।
আড়াই দিনে গ্যাস মিলছে দাবী করেছিলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দাবী করেন, বুকিং-এর আড়াই দিনের মধ্যেই গ্যাস মিলছে। তবে তৃণমূলের দাবী, বাস্তবে ৮-১০ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্যাস পাচ্ছেন না আমজনতা। এদিন সংসদের বাইরে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মিত্র, জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, দোলা সেন, শতাব্দী রায়, মালা রায়ের মত মহিলা তৃণমূল সাংসদরা।
আড়াই দিনের গ্যাস সরবরাহের দাবীকে খারিজ করে মহুয়া মিত্র বলেন, “দেশে এলপিজি সংকটে (Fuel Crisis) আতঙ্কিত মানুষ। গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্র সরকার বলছে আড়াই দিনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে!” এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মহুইয়া বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে আপনারা পরিস্থিতি দেখুন! গত পাঁচদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেখা নেই। তিনি কেরলে ভোটপ্রচারে ব্যস্ত!”


