স্নেহা পাল, শিলং: মেঘালয়ের (Meghalaya) অন্ধকার ও সংকীর্ণ সুড়ঙ্গের ভিতরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে একে একে ঝরে গেছে একাধিক প্রাণ। আজ সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫।
বিস্ফোরণে মৃত্যু মিছিল
মেঘালয়ের (Meghalaya) পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলার থাংস্কু এলাকায় অবস্থিত একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে খনির ভিতরে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই আটকে পড়েন। প্রথমে ১৮ টি এবং শুক্রবার আরও সাতটি দেহ উদ্ধার হওয়ার পর আজ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ এ পৌঁছেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিপজ্জনক র্যাটহোল মাইনিং পদ্ধতিতে ডিনামাইট ব্যবহার করার ফলেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের খনির ভিতরে নামানো হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকদের পরিবার।
গ্রেপ্তার দুই খনি মালিক
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই খনি মালিক সুতঙ্গা পোহওয়াইলং গ্রামের বাসিন্দা শামেহি ওয়ার (৪২) এবং জলাফেট পিরদুং গ্রামের বাসিন্দা চিরমাং (৩৬) কে শুক্রবার খলিয়েহরিয়াটের স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পূর্ব জৈন্তিয়া হিলসের পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, “ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ধরার জন্য তল্লাশি চলছে।”
উদ্ধার অভিযানে বায়ুসেনা
রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে এখনো উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেনা ও বায়ুসেনাকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা জানিয়েছেন, অবৈধ খনন কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ৩ লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
জাতীয় পরিবেশ আদালতের (NGT) নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মেঘালয়ের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ কয়লা খনন চলছে। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব ও দুর্বল প্রয়োগের কারণেই এই ধরনের অবৈধ খনন কার্যকলাপ বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


