27 C
Kolkata
Monday, March 30, 2026
spot_img

বাবা-মা ও বোনকে মাটিতে পুঁতে খুন : নৃশংস ঘটনায় গ্রেপ্তার ছেলে

স্নেহা পাল, বেঙ্গালুরু : কর্ণাটকের (Karnataka) বিজয়নগর (Vijayanagara) জেলায় বাবা-মা ও বোনকে খুন (Murder) করে ভাড়া বাড়ির মেঝের নিচে দেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অক্ষয় বি জে মঙ্গলবার বিজয়নগর জেলার কোট্টুর শহরে নিজের বাবা ভীমরাজ (৫২), মা জয়লক্ষ্মী জে ওরফে জয়াম্মা (৫০) এবং বোন অমৃতা (১৮)-কে হত্যা করে। পরিবারটি মূলত চিত্রদুর্গ জেলার নায়াকানাহাট্টি গ্রামের (Nayakanahatti Village) বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে বহু বছর ধরে কোট্টুরে (Kottur) বসবাস করছিল। ভীমরাজ সেখানে একটি টায়ারের দোকান চালাতেন।

খুনের পর নিখোঁজের নাটক

ঘটনার পর অভিযুক্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বেঙ্গালুরুর তিলক নগর থানায় (Tilak Nagar police station) গিয়ে পরিবারের তিন সদস্য নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করে। সে পুলিশকে জানায়, জয়দেব হাসপাতালে (Jayadeva hospital) চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পর তার পরিবার আর ফেরেননি।

মোবাইল লোকেশনেই মিথ্যার ফাঁস

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই অভিযুক্তের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জয়দেব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, উল্লিখিত দিনে ওই নামে কোনও রোগী সেখানে আসেননি। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানে ভীমরাজের মোবাইল ফোনের অবস্থান তিলক নগর থানাতেই পাওয়া যায় এবং সেটি অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে অক্ষয় খুনের কথা স্বীকার করে। প্রথমে সে দেহগুলি হ্রদে ফেলে দেওয়ার কথা বললেও পরে জানা যায়, তিনটি দেহই কোট্টুরের ভাড়া বাড়ির বসার ঘরের মেঝে খুঁড়ে একই জায়গায় পুঁতে রাখা হয়েছিল। দুর্গন্ধ আটকাতে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি।

ধাপে ধাপে পরিবার নিধনের সন্দেহ

বিজয়নগরের পুলিশ সুপার এস জানভী জানান, বর্তমানে তদন্ত তিলক নগর থানার অধীনেই চলছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর খুনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিনজনকে আলাদা সময়ে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত প্রথমে নিজের মাকে খুন করে, পরে বাড়ি ফেরার পর বোনকে এবং শেষে নিজের বাবাকে খুন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভীমরাজের ভাই সুরেশ বাবু জানান, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত তাকে ফোন করে পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানায় এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন