29 C
Kolkata
Wednesday, February 11, 2026
spot_img

স্কুলে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য! অভিযোগ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে

স্নেহা পাল, লখনউ: ১৭ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) বারাবাঁকি জেলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক সরকারি শিক্ষিকার (School Teacher) দেহ উদ্ধার। ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার হারাখ ব্লকের উদ্ভবপুর গ্রামের কম্পোজিট স্কুলে। মৃত শিক্ষিকার নাম উমা ভার্মা (৪০)। তিনি ওই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। রবিবার থানায় উমার স্বামী ঋষি ভার্মার অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিয়াওয়াতি এবং সহকারী শিক্ষক সুশীল ভার্মার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করা হয়।

FIR অনুযায়ী, শনিবার সকালে ঋষি ভার্মা স্ত্রীকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে নিজের কর্মস্থলে যান। দুপুরের দিকে তিনি খবর পান, উমার দেহ স্কুলের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি স্কুলে পৌঁছনোর সময় স্ত্রীর ব্যাগ থেকে কিছু কাগজপত্র এবং ঘরের আলামত সরানো হয়েছিল।

ঋষি ভার্মা আরও অভিযোগ করেন, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা (School Teacher) হওয়ার পর থেকেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও এক সহকর্মী তাঁকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করতেন। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফতেপুরে এক অনুষ্ঠানে উমা ভার্মা ও তাঁর এক ছাত্রকে সম্মানিত করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উমা ভার্মা তাঁর মোবাইল স্ট্যাটাসে লেখেন যে তিনি আর ওই স্কুলে থাকতে চান না, কাজ করেও শুধু কষ্ট পাচ্ছেন এবং সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে অপমানিত হচ্ছেন। বার্তার শেষ লাইনে ছিল, “ঈশ্বর, আমাকে শক্তি দাও।”

অন্যদিকে, উমার ভাই শিবকান্ত দাবি করেন, গত তিন বছর ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষক তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন, যার জেরে তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি জানান, বারাবাঁকির এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে উমা চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে সহকর্মী শিক্ষকদের (School Teacher) একাংশের দাবি, উমা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতা ও অবসাদে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি স্কুলে তাঁর সাথে কোনও বড় বিবাদ বা হয়রানির ঘটনা ঘটেনি।

জেলা বেসিক শিক্ষা আধিকারিক নবীন পাঠক এবং হারাখ ব্লকের শিক্ষা আধিকারিক অশ্বিনী কুমার সিং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। সিং জানান, উমা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানির অভিযোগ জানাননি এবং ঘটনার দিনও স্কুলে নিজের অসুস্থতার কথা বলেছিলেন।

সদর সার্কেল অফিসার সৌরভ শ্রীবাস্তব জানান, ময়নাতদন্তে ঝুলে মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তও শুরু হয়েছে। এই মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের আশায় রয়েছেন উমা ভার্মার পরিবার।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন