স্নেহা পাল, দেরাদুন: মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে দুন মেডিক্যাল কলেজে (Doon medical College) এক প্রথম বর্ষের এমবিবিএস ছাত্রকে বেল্ট দিয়ে মারধর করার অভিযোগ করা হয়। বলা হয় দুই সিনিয়র ছাত্র তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। ঘটনায় কলেজের অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি (Anti Ragging Committee) তদন্ত শুরু করেছে।
হোস্টেল ওয়ার্ডেনের কাছে ১৩ জানুয়ারি লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্র জানান, ঘটনার দিন তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ ও ২০২৪ ব্যাচের দুই সিনিয়র ছাত্র তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গিয়ে বেল্ট দিয়ে মারধর করে। পরে অভিযুক্তরা হোস্টেলের ভিতরেও তাঁকে ভয় দেখায়। অভিযোগপত্রে ছাত্রটি লিখেছেন, “সম্ভবত আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় আমি আতঙ্কিত।” ঘটনার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
দুন মেডিক্যাল কলেজের (Doon medical College) অধ্যক্ষ ডা. গীতা জৈন জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তাঁর কথা অনুযায়ী ,“আমাদের অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি (Anti Ragging Committee) বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে স্পষ্ট হবে কী ঘটেছে।” কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে দেখা হবে ঘটনাটি র্যাগিংয়ের আওতায় পড়ে কি না, নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের বক্তব্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগকারীর পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দুন মেডিক্যাল কলেজে এর আগেও র্যাগিংয়ের (Ragging) অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক জুনিয়র ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক-সহ সাতজন সিনিয়রকে সাসপেন্ড করা হয়। তার আগে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে হয়রানির অভিযোগে ছ’জন ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ভারতের কলেজগুলিতে র্যাগিংয়ের আতঙ্ক:
শুধু দুন মেডিক্যাল কলেজ (Doon medical College) নয়, ভারতের বিভিন্ন মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বারবার র্যাগিং ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। ইউজিসি ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন পড়ুয়াদের একাংশই ভয় ও চাপে দিন কাটান। অনেক ক্ষেত্রে এই র্যাগিং এর ফলে ছাত্ররা আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত বেছে নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ জানাতে ভয়, সামাজিক চাপ এবং ভারতের ‘সিনিয়র-জুনিয়র সংস্কৃতি’র ভুল ধারণা র্যাগিংকে দীর্ঘদিন ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি ও হেল্পলাইন চালু রয়েছে, কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ ঘটছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এর মধ্যেই ডুন মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক অভিযোগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।


