স্নেহা পাল, দিল্লি: মঙ্গলবার দেশজুড়ে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন’ (UFBU)-এর ডাকে ব্যাঙ্কগুলিতে চলছে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট (Bank Strike)।
‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন’ (UFBU)-এর ডাকে হওয়া এই ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে। আজ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB), ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (BOB), ক্যানারা ব্যাঙ্ক-সহ একাধিক সরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় পরিষেবা সীমিত।
দৈনন্দিন লেনদেনে সমস্যায় সাধারণ মানুষ
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ও প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি) উপলক্ষে পরপর দু’দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবারের ধর্মঘট (Bankstrike) গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বহু গ্রাহক শাখায় এসে লেনদেন করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নগদ জমা ও তোলা, চেক জমা, পাসবুক আপডেট এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। যদিও ব্যাঙ্কগুলির ডিজিটাল পরিষেবা, UPI, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং চালু রয়েছে।
এটিএম খোলা থাকলেও, পরপর ছুটি ও ধর্মঘটের জেরে কিছু এলাকায় নগদের ঘাটতি দেখা যায়।
তুলনায় স্বাভাবিক বেসরকারি ব্যাঙ্ক
SBI-সহ একাধিক ব্যাঙ্ক আগেই গ্রাহকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল যে ধর্মঘটের (Bankstrike) কারণে শাখা পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। SBI এর পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে HDFC ব্যাঙ্ক, ICICI ব্যাঙ্ক ও Axis ব্যাঙ্কের মতো বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।
পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহে অনড় ইউনিয়ন
উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি মুখ্য শ্রম কমিশনারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির বৈঠকে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা। তবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের পথে হাঁটতে হয়েছে তাঁদের।
ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন গ্রাহকদের বিরুদ্ধে নয়। একটি টেকসই ও মানবিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার দাবিতেই তাঁরা এই ধর্মঘট করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও আয়োজন করা হয়েছে।


