Aaj India, নয়াদিল্লি: ইরানকে(Iran) ঘিরে ইজরায়েল(Israel) ও আমেরিকা (United States)-এর সঙ্গে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, আর তার প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের ওপর। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেখা দিয়েছে বড়সড় এলপিজি সংকটের আশঙ্কা। পেট্রোল-ডিজেলের বাজার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) জানিয়েছেন, করোনাকালের মতোই জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)-এর সঙ্গেও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই আবহেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ জরুরি সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং(Rajnath Singh) এবং বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর(S. Jaishankar)-সহ একাধিক শীর্ষমন্ত্রী। সব রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছিলেন, বর্তমান সঙ্কট ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে এবং এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলির সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এরই মধ্যে গতকাল তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সূত্রের খবর, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত আধুনিক যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সর্বদলীয় বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও স্পষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস এই বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। রাজ্যসভায় পশ্চিম এশিয়া ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন ওয়াকআউট করেছিল তারা। তার ওপর, বাংলার ভোট প্রচারে ব্যস্ত থাকায় দলের অধিকাংশ সাংসদ দিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, সরকারের বিদেশনীতি এখন ‘ইউনিভার্সাল জোক’-এ পরিণত হয়েছে। যদিও কংগ্রেস আজকের বৈঠকে অংশ নেবে বলেই জানা গিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের শাসক দলগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার।


