স্নেহা পাল, দেরাদুন: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) একের পর এক ধর্মীয় স্থানে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এর আগেই কুম্ভতে হিন্দু না হলে স্নান করা যাবে না বলে জানিয়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। এর মধ্যেই রবিবার শ্রী বদরিনাথ কেদারনাথ টেম্পল কমিটি (Badrinath Kedarnath Temple Committee) (BKTC) জানিয়েছে যে তাদের অধীনে থাকা ৪৫টি মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
রবিবার BKTCর চেয়ারম্যান ও বিজেপি নেতা হেমন্ত দ্বিবেদী (Hemant Dwivedi) জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই কমিটির বোর্ড বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করা হবে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, কমিটির অধীনে থাকা ৪৫টি মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হবে।
ঐতিহ্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ অ-হিন্দুদের আগমন
দ্বিবেদীর (Dwivedi) দাবি, ঐতিহাসিকভাবে এই সব মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাঁর বক্তব্য, অ-বিজেপি সরকারের আমলে বহু ক্ষেত্রে সেই দীর্ঘদিনের রীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। মন্দিরের পবিত্রতা ও ধর্মীয় আচার রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই মন্দিরগুলির আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতি সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও, উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) রাজ্য সরকারের বেআইনি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের প্রশংসা করেন দ্বিবেদী। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ রাজ্যের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আইনশৃঙ্খলা আরোও মজবুত করতে সাহায্য করছে।
নজর ঘোরানোর রাজনীতি? কটাক্ষ কংগ্রেসের
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল। কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি সূর্যকান্ত ধসমানা (Suryakant Dhasmana) বলেন, “এর জন্য আলাদা করে কোনও নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন ছিল না। অ-হিন্দুরা এমনিতেই এই মন্দিরগুলিতে প্রবেশ করেন না। এটি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশলমাত্র।”


