Aaj India Desk, পাটনা: সরকারি চাকরির পরীক্ষার (Government Job Exam) অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) হাতে পেয়ে প্রথমে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন তিনি। চার বছরের অপেক্ষার অবসান অবশেষে পরীক্ষায় বসার সুযোগ! কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরেই সেই স্বস্তি বদলে গেল চরম বিস্ময়ে। কারণ অ্যাডমিট কার্ডে নিজের ছবি খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি।
২০২২ সালে পিওন পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন বিহারের যুবক রীতেশ কুমার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেটি হাতে পেয়েই চমকে ওঠেন তিনি। সেখানে তার নিজের ছবির জায়গায় দেখা যাচ্ছে এক গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরের ছবি!
আগামী ১৫ মার্চ পরীক্ষার দিন ঠিক হয়েছে। কিন্তু নিজের ছবির বদলে কুকুরের ছবি দেখে কার্যত হতবাক রীতেশ। কীভাবে এমন ভুল হল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
এই ঘটনার পরেই বিহার সরকারের (Bihar Government) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন সবার নজর একটাই পরীক্ষার আগে কি ঠিক হবে এই অদ্ভুত ভুল, নাকি অ্যাডমিট কার্ডের সেই ছবিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় বাধা?
সূত্রের খবর, ২০২২ সালে জেলা আদালতে পিওন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময়ই নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন রীতেশ কুমার। তাঁর দাবি, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় নিজের সঠিক ছবিই আপলোড করেছিলেন তিনি। এমনকি প্রমাণ হিসেবে নিজের কাছে সংরক্ষিত নথিও দেখিয়েছেন।
কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগে ওয়েবসাইট থেকে অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) ডাউনলোড করতেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য সেই ভুল। নিজের ছবির জায়গায় সেখানে ভেসে উঠেছে একটি কুকুরের ছবি! বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় হাসির রোল পড়ে যায়। অনেকেই রীতেশকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করেন। ফলে অপমান আর দুশ্চিন্তার মাঝেই এখন দিন কাটছে তাঁর।
রীতেশ জানিয়েছেন, ছবির এই গণ্ডগোল ঠিক করার জন্য তিনি ইতিমধ্যেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভুল ছবির অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) নিয়ে কি আদৌ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন তিনি? এই দুশ্চিন্তাই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে রীতেশকে।
কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর একটাই অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব যেন অ্যাডমিট কার্ডের এই ভুল সংশোধন করা হয়। না হলে চার বছরের অপেক্ষা ও প্রস্তুতি এক মুহূর্তে বিফলে যেতে পারে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিহারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বজ্ঞান ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


