29 C
Kolkata
Wednesday, February 11, 2026
spot_img

স্বাধীনতা সংগ্রামের নীরব সাক্ষী: নেতাজির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, পূর্ণ করবে ১৬০ বছরের পথচলা!

কলকাতা: এলগিন রোডের একটি বাড়ির নির্জন ঘরে, পর্দার আড়ালে বসেছিলেন এক মানুষ। ঘরের দেওয়াল গুলিও তখন যেন ব্রিটিশদের নজরের মত শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে রেখেছে তাঁর উপর। সেই নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপেই বাঘছালের উপর যোগাসনে বসে চলত চণ্ডীপাঠ, দিনে একবার শুধু দুধ আর ফল। নিঃশব্দে খাবার পৌঁছে দিতেন একমাত্র ভরসার মানুষ, তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র।

এক সকালে খাবার পড়ে রইল অক্ষত। পর্দা সরানো হতেই চমকে ওঠে ব্রিটিশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ—ঘরে নেই সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhash Chandra Bose)। এলগিন রোডের বাড়ি থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি, রেখে গেছেন শীতের পোশাক, কলম, এমনকি জুতোর জোড়াও। স্বাধীনতার পথে সেই দুঃসাহসিক যাত্রাই ইতিহাসে পরিচিত হয়ে উঠেছে নেতাজির ‘গ্রেট এস্কেপ’ নামে।

নেতাজির ‘গ্রেট এস্কেপের’ বাহন

ব্রিটিশ রাজের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে নেতাজি তখন বেরিয়ে পড়েছে দেশে স্বাধীন সূর্য ফেরাতে। সঙ্গী ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির কুমার বসু। এলগিন রোড থেকে গোমো পর্যন্ত গাড়ির যাত্রা ছিল দীর্ঘ। টানটান উত্তেজনা আর স্বাধীনতা ফেরানোর জেদ বুকে নিয়ে নেতাজি (Netaji Subhash Chandra Bose) এগিয়ে চলেছেন। পরবর্তী গন্তব্য ধানবাদ। তাঁর জন্য সেখানে অপেক্ষা করছেন আরও এক ভ্রাতুষ্পুত্র অশোকনাথ বসু।

তিনি লেখেন, “কাকা আমাদের জানিয়েছিলেন, তিনি পেশোয়ার হয়ে কাবুল, সেখান থেকে মস্কো এবং শেষমেষ বার্লিনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেছিলেন, দিল্লি-কালকা মেলে চড়বেন, কিন্তু দিল্লি পৌঁছানোর আগে কোনো ছোট স্টেশনে নামবেন যাতে রাজধানী অতিক্রম করতে না হয়, এবং তারপর ফ্রন্টিয়ার মেল দিয়ে পেশোওয়ারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।” যদি ৮-৯ দিন তাঁর পালানোর খবর গোপন রাখা গেলেই ব্রিটিশ সরকারের নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাবেন তিনি।

সেই রাতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাতে নিঃশব্দে জুড়ে গিয়েছে হাওড়া-দিল্লি কালকা মেল। ভারতের সেই মহান সন্তান নেতাজিকে যেটি নিরাপদে গোমো থেকে দিল্লির পথে নিয়ে গিয়েছিল। পরে ফ্রন্টিয়ার মেল ধরে পেশোয়ার, নেতাজির (Netaji Subhash Chandra Bose) দেশ ছেড়ে দেশ স্বাধীন করার বাহন। ১৮৬৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া হাওড়া-দিল্লি মেলের নাম পরিবর্তিত হয়ে কালকা মেল হয়।

দশকের পর দশক ধরে রাজ্য বদলেছে, সরকার পাল্টেছে, কিন্তু ট্রেনের রেললাইন থেমে নেই। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্র ট্রেনটির নামকরণ করে ‘নেতাজি এক্সপ্রেস’ হিসেবে, নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার পালানোর গুরুত্ব স্মরণে।

এপ্রিলে ১৬০ বছরের পথচলা পূর্ণ করবে ‘নেতাজি এক্সপ্রেস’

২০২৬-এর এপ্রিলে ১৬০ বছর পূর্ণ করবে কালকা মেল। ইতিহাসে এক সময় এই ট্রেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে “মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন” নামে স্বাধীনতার লক্ষ্যে এগিয়ে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন