Aaj India desk, বসিরহাট: বসিরহাটের সকচুরা বাগুন্ডির সত্তরোর্ধ্ব ইয়ার বানু বিবি—একজন অপেক্ষারত মা। তাঁর ছেলে আমির হোসেন গাজি (৩৪) যে কিনা পেশায় ধর্মীয় শিক্ষক,সংঘাতে জর্জরিত তেহরানে (Tehran) স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ আটকে। এদিকে তেহরানে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়, আর বসিরহাটে টিভির পর্দায় চোখ রেখে কাঁপছে পরিবার। গত শুক্রবার থেকে সব যোগাযোগ বন্ধ তার ছেলে-র সাথে —ফোনের নীরবতাই এখন মায়ের দীর্ঘতম রাত।
যার ফলে বসিরহাটের সকচুরা বাগুন্ডি গ্রামের ছোট্ট ঘরে টানা দু’দিন ঘুম আসেনি ইয়ার বানু বিবির চোখে। তেহরানে (Tehran) থাকা তাঁর ছেলে আমির হোসেন গাজির সঙ্গে শুক্রবারের পর আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। ইরান ও মার্কিন–ইজরায়েল সংঘাত হঠাৎ তীব্র আকার নেওয়ার পর থেকেই উদ্বেগে দিন কাটছে গাজি পরিবারের।
আট বছর আগে কাজের সূত্রে তেহরানে পাড়ি দেন আমির। স্ত্রী উষা পারভিন (২৮), দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সেখানেই গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট সংসার। ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে স্থিতিশীল জীবনই কাটছিল কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর পরিস্থিতি বদলে যায় দ্রুত। ইরান সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায়, দেশের বিভিন্ন অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। একাধিক উচ্চপর্যায়ের হতাহতের খবরে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
কে কে আছে পরিবার- এ?
বসিরহাটে বাড়িতে ইয়ার বানু বিবি ছাড়াও রয়েছেন তাঁর আরও দুই ছেলে সাইন গাজি ও সাবির গাজি এবং প্রায় ১৪ জন পরিবারের সদস্য। টিভির পর্দায় খবর দেখে কাটছে সময়।
“শেষবার ছেলে বলেছিল টাকা পাঠাতে, যাতে ওরা দেশে ফিরতে পারে। তারপর থেকে আর কোনও খবর নেই,” কাঁদতে কাঁদতে বলেন ইয়ার বানু। পাঁচ জনের বিমানভাড়া জোগাড় করার সামর্থ্যও নেই তাঁদের এখন। ছেলে ছাড়া তারা এখন অক্ষম।
এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর আবেদন, সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরায়। “ছেলেমেয়েরা ফিরে এলে আমরা অনেক মা প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করব,” বলেন তিনি।
এদিকে তেহরানে (Tehran) অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক উড়ানে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে কিন্তু বাস্তবে টিকিটের খরচ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে বহু পরিবারই চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
হঠাৎ যে এমন বিপদ আসবে, কেউ ভাবেনি। এক মায়ের চোখের জল এখন শুধু অপেক্ষা—ছেলের নিরাপদে ফেরার খবরের।


